Home Blog

ফেসবুকে লাইভ অবস্থায় পদ্মা সেতুতে বাইক এক্সিডেন্ট, নিহত ২ (ভিডিওসহ)

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে পদ্মা সেতুতে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাকেল চালানোর সময় দুর্ঘটনায় আহত সেই দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (২৬ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে রাত ৯টার দিকে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন ওই দুই যুবক। পরে তাদের সেখান থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে তাদের মৃত্যু হয়।

এদিকে এই সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, বেপরোয়া গতিতে বাইক চালিয়ে একের পর এক মোটরসাইকেল ও গাড়িকে ওভারটেক করছেন তারা। একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায় মোটরসাইকেলটির। পরে একটি ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লাগলে তারা সেখানে ছিটকে পড়ে যান। এ সময় দুই যুবক রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকলে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।

ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন

পদ্মাসেতুতে টিকটকার নারী এবং মূত্রত্যাগকারী যুবকের সন্ধানে পুলিশ

যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার পর প্রথম দিনেই নেতিবাচক শিরোনামে হাজির হয়েছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। গাড়ি থামিয়ে ছবি তোলা, সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে টিকটক ভিডিও করাসহ নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছেন সেতুর নাট খুলে টিকটক এবং সেতুতেই মূত্র ত্যাগ করা এক ব্যক্তি।

অবশ্য এ ঘটনার পরপরই ভাইরাল সেই টিকটকারকে আটক করা হয়। রাজধানীর শান্তিনগর এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তবে এবার পুলিশের নজর সেতুতে মূত্র বিসর্জন করা সেই যুবকের দিকে।

রবিবার (২৬ জুন) রাতে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল মাসুদ।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের নাট-বল্টু খোলায় বায়েজিদ নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। একই অভিযোগে আরেক যুবককে খোঁজা হচ্ছে। এ ছাড়া পদ্মা সেতুতে মূত্র বিসর্জন দেওয়া আরেক যুবককে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

এদিকে সিআইডির মুন্সীগঞ্জ জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আজিজুল হক বলেন, পদ্মা সেতুতে যারাই আইনের ভঙ্গ করে টকটক ভিডিও করেছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে একজনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। আমাদের পুলিশ বাহিনী বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।

উল্লেখ্য, গতকাল শনিবার (২৫ জুন) পদ্মা সেতু উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরদিন রোববার ভোর ৬টা থেকে সব ধরনের যান চলাচলের জন্য পদ্মা সেতু খুলে দেওয়া হয়।

কিন্তু শনিবার পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর বিপুলসংখ্যক মানুষ উঠে পড়েন মূল সেতুতে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের সরিয়ে দেন। আজ সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার পর দিনের বিভিন্ন সময়ে বিশৃঙ্খলা দেখা গেছে। টিকটক, মূত্রত্যাগ, নাট খুলে ফেলার জন্য ব্যাপক সমালোচনা চলছে পুরো দেশজুড়ে।

পদ্মা সেতুতে ভয়াবহ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা, আহত ২ (ভিডিও)

পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে দুজন মারাত্মক আহত হয়েছেন। রোববার (২৬ জুন) রাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গুরুতর আহত হয়ে দুজন সেতুর ওপর পড়ে আছেন। পাশে রক্তের ছোপ। তাদের হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন দেব জানান, সেতুর ২৭-২৮ নম্বর পিলারের মাঝে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেয়া হচ্ছে।
ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন

অনির্দিষ্টকালের জন্য পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

0

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের ঠিক একদিন পরই  সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রথম দিন মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি থাকলেও সোমবার সকাল ৬টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ থাকবে।

রবিবার সন্ধ্যায় সরকারের এক তথ্য বিবরণীতে এ কথা জানানো হয়েছে।

বিবরণীতে বলা হয়, সোমবার ভোর ৬টা থেকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার।

স্বপ্নের পদ্মা সেতু খুলে দেওয়া হয়েছে সর্ব সাধারণের জন্য। রোববার সকাল ৫টা ৪০ মিনিট থেকে সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। আর সেতু চালু হওয়ার পর প্রথমদিনই লক্ষ্য করা গেছে যানবাহনের ব্যাপক চাপ।

দিনে ৯ হাজার ২৭২টি মোটরসাইকেল টোল দিয়ে পদ্মা সেতু পার হয়েছে। যানবাহন চলাচল শুরু হওয়ার পর প্রথম ৮ ঘণ্টায় সেতু পার হওয়া যানবাহনের মধ্যে প্রায় ৬১ শতাংশ ছিল মোটরসাইকেল।

এদিকে সন্ধ্যায় সেতুতে একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার দুজন গুরুতর আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

আগামীকাল থেকে পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার।

রোববার (২৭ জুন) ভোর ছয়টা থেকে সেতু বিভাগের এই আদেশটি কার্যকর হবে।

এর আগে রোববার (২৬ জুন) রাতে পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সেতু বিভাগ।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কাল ২৭ জুন ২০২২ সোমবার ভোর ৬টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ করেছে সরকার।

পদ্মা সেতুর নাট খুলে নেয়া কে এই ভাইরাল টিকটকার!

0

যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার পর প্রথম দিনেই নেতিবাচক শিরোনামে হাজির হয়েছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। গাড়ি থামিয়ে ছবি তোলা, সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে টিকটক ভিডিও করাসহ নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছেন সেতুর নাট খুলে টিকটক করা এক ব্যক্তি।

অবশ্য এ ঘটনার পরপরই ভাইরাল সেই টিকটকারকে আটক করা হয়। রাজধানীর শান্তিনগর এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডি জানায়, পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের নাট-বল্টু খোলা ওই যুবকের নাম বায়েজিদ তালহা। তার বাড়ি পটুয়াখালীতে। তিনি রাজধানীতে বেসরকারি চাকরি করেন।

কাইসার ৭১ (Kaisar71) নামক একটি টিকটক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রথমে ভিডিওটি আপলোড করা হয়। এরপর ফেসবুকেও সেটি ভাইরাল হয়। টিকটকের লোগো লাগানো ৩৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে সেতুর রেলিংয়ের নাট-বল্টু খুলতে দেখা যায়।

ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবক কেবল হাত দিয়েই পদ্মা সেতুর কংক্রিটের রেলিংয়ের ওপর দিয়ে লোহার রেলিংয়ের দুটি নাট খুলছেন। এই নাট দুটি দিয়ে লোহার রেলিংটি আটকানো রয়েছে কংক্রিটের রেলিংয়ের সঙ্গে। পরে যুবক নাট দুটি বাঁহাত দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে খুলে ডানহাতে নেন এবং আবার বাঁহাতের ওপর রাখেন।

নাট দুটি হাতে রেখে বলেন, ‘এই হলো আমাদের পদ্মা সেতু। আমাদের হাজার হাজার কোটি টাকার পদ্মা সেতু।’ এ সময় পাশ থেকে আরেকজনকে বলতে শোনা যায়, ‘নাট খুলে ভাইরাল করে দিয়েন না।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। ওই যুবকের এমন কাণ্ড দেখে অনেকেই তার শাস্তি দাবি করেছেন।

আগামীতে দেশকে নেতৃত্ব দিতে তরুণদের তৈরি হতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

0

নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও গবেষণা লব্দ জ্ঞানে সমৃদ্ধ হয়ে আগামীতে নেতৃত্ব দানে প্রস্তুত হওয়ার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সোনার ছেলে-মেয়েরা তোমরা তৈরি হও আগামীতে দেশকে নেতৃত্ব দিতে। সর্বক্ষেত্রেই তোমরা তোমাদের মেধার বিকাশ ঘটাবে এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেেব। যেন বাংলাদেশ আর পিছিয়ে না থাকে, বাংলাদেশ এগিয়ে যায় এবং উদ্ভাবনী শক্তিতে আমাদের ছেলে-মেয়েরা আরো উন্নত হয়।

রবিবার (২৬ জুন) সকালে ‘বঙ্গবন্ধু সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা -২০২২’ এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

রাজধানীর সেগুন বাগিচার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনষ্টিটিউট মিলনায়তনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

শেখ হাসিনা বলেন, আজকের শিশুরা ভবিষ্যতে এদেশের কর্ণধার হবে। তারাই তো আমার মত প্রধানমন্ত্রী হবে, মন্ত্রী, হবে শিক্ষক, বড় বড় কর্মকর্তা হবে এবং প্রশাসন, সংবাদিকতাসহ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত থেকে দেশের উন্নতি করবে। কাজেই, সেইভাবে তারা তৈরি হোক।

তিনি বলেন, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে তোমাদের চলতে হবে এবং প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের যে বিকাশ ঘটছে তারসঙ্গে তাল মিলিয়েই এগিয়ে যেতে হবে।

সরকারপ্রধান এ সময় কৃষি, বিজ্ঞান, স্বাস্থ্য খাত সহ বিভিন্ন খাতে গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, গবেষণাই পারে এক্ষেত্রে পথ দেখাতে। আর আগামীর বাংলাদেশকে আজকের মোধাবীরাই এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

এ সময় তিনি বিশেষ চাহিদা সম্পন্নদেরকেও এই মেধা অন্বেষণে যুক্ত করায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, কেননা, এদের মধ্যেও বিশেষ প্রতিভা লুকিয়ে রয়েছে এবং এরাও আমাদের সন্তান এবং আপনজন সেই বিবেচনায় এদেরকেও মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে হবে। কাজেই, নতুন প্রজন্মকে আমি বলব, সকলকে নিয়ে চল। তবেই আমরা সাফল্য অর্জন করতে পারবে, বলেন তিনি।

পুরস্কার বিজয়ী সকলকে অভিনন্দন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তোমাদের যে সুপ্ত মেধা সেটাই আমাদের ভবিষ্যত।’

বঙ্গবন্ধু সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ নীতিমালা-২০১২ প্রণয়ণের মাধ্যমে ২০১৩ সাল থেকে মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হচ্ছে। কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে ২০২০ ও ২০২১ সালে প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে প্রতিযোগিতাটির নামকরণ করা হয় ‘বঙ্গবন্ধু সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা’।

দেশে সকল সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের তিনটি গ্রুপে (ষষ্ঠ-অষ্টম, নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশ) বিভক্ত করে অনুষ্ঠিত হয় এই প্রতিযোগিতা।

অনুষ্ঠানে ভাষা-সাহিত্য, দৈনন্দিন বিজ্ঞান, গণিত ও কম্পিউটার, বাংলাদেশ স্টাডিজ এবং বাংলাদেশ স্টাডিজ ও মুক্তিযুদ্ধ (শুধুমাত্র বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য)সহ মোট পাঁচটি বিষয়ে তিনটি গ্রুপে দেশের ১৫ জন মেধাবীকে বঙ্গবন্ধু সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ পুরস্কার দেওয়া হয়।

এ বছর এপ্রিল-মে মাসে প্রতিষ্ঠান, উপজেলা, জেলা, বিভাগ এবং জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। বিভাগীয় পর্যায়ে সেরা মোট ১৩২ জন থেকে বিচারকদের মূল্যায়নে ১৫ জন এবছরের সেরা মেধাবী নির্বাচন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দিপু মনি বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। পুরস্কার হিসেবে প্রত্যককে ২ লাখ টাকার চেক, ক্রেস্ট,মেডেল ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।

শিক্ষামন্ত্রী ডা.দিপু মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অথিথি হিসেবে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. কামাল হোসেন বক্তৃতা করেন। এ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবু বকর সিদ্দিক।

পুরস্কার বিজয়ীদের পক্ষে রাজশাহী কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী মিফতাহুল জান্নাত এবং রাজবাড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর ছাত্র জুলকারনাইন নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তৃতা করেন। এ অনুষ্ঠানে এই প্রতিযোগিতার ওপর একটি ভিডিও ডকুমেন্টারিও প্রদর্শিত হয়।

‘প্রধানমন্ত্রী বড় বড় কাজ করেই ফেলেছেন, এখন মানুষের দিকে নজর দিন’

স্বপ্নের পদ্মাসেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, আজকে জাতির এই সাহসী উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। প্রধানমন্ত্রী বড় বড় কাজ করেই ফেলেছেন। এখন মানুষের দিকে নজর দিতে হবে। একত্রে মিলে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখি।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে জাতিকে পদ্মা সেতু উপহার দিয়েছেন। জাতি এতে গৌরবান্বিত। প্রধানমন্ত্রী প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছেন, যেমনটি তার বাবা প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছিলেন ৭ মার্চে।

আজ শনিবার(২৫ জুন) পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষ্যে মাওয়া প্রান্তে আয়োজিত সুধী-সমাবেশে অংশ নেওয়ার সময় জাফরুল্লাহ চৌধুরী সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, সবাই বলেছিল– এই সেতুর নাম হাসিনা সেতু করতে। উনি করেননি। পদ্মা সেতু নাম রেখেছেন। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেছেন।

পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকতে পারাটা অত্যন্ত আনন্দঘন অনুভূতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, একাত্তরেও মুক্তিযুদ্ধ করতে পেরেছি। আজকে পদ্মা সেতু নিজের চোখে দেখতে পেরেছি। এটির মাধ্যমে আমার জীবনের বড় একটি আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়ে গেছে।

‘আমি জাতির উল্লেখযোগ্য ঘটনারগুলোর মধ্যে একটাতে অনুপস্থিত ছিলাম, সেটি ৭ মার্চের ভাষণ। এ ছাড়া জাতির সব গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় আমি ছিলাম’, যোগ করেন ডা. জাফরুল্লাহ। 

বাংলাদেশের এক গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহাসিক দিন পদ্মা সেতুর উদ্বোধন: প্রধানমন্ত্রী

0

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশপ্রেমিক জনগণের আস্থা ও সমর্থনের ফলেই আজকে উন্নয়নের এ নতুন অধ্যায় উন্মোচিত হয়েছে। প্রমত্তা পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত দেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো বহুল প্রতীক্ষিত স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের দিনকে বাংলাদেশের জন্য এক গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহাসিক দিন।

আগামীকাল (২৫ জুন) পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে শুক্রবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনেও গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্ন পূরণে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাব। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ক্ষুধা দারিদ্র্যমুক্ত ও উন্নত-সমৃদ্ধ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন লালিত স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব, ইনশাআল্লাহ।

এ বাণীতে প্রমত্তা পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত দেশের সর্ববৃহৎ পদ্মা সেতু যান চলাচলের জন্য আগামীকাল খুলে দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী চ্যালেঞ্জিং ‘পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্প’ বাস্তবায়নে নিয়োজিত সর্বস্তরের দেশি-বিদেশি প্রকৌশলী, পরামর্শক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, নিরাপত্তা তদারকিতে নিয়োজিত সেনাবাহিনী ও নির্মাণ শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে তাদের অবদান ও অক্লান্ত পরিশ্রমের জন্য অভিবাদন জানান।

সেতুর দুই প্রান্তের জনগণ জমি প্রদানের মাধ্যমে এবং নানাভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তা করায় তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং পদ্মা সেতু উদ্বোধনের এ মাহেন্দ্রক্ষণে দেশবাসীকে তিনি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বব্যাংক পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ এনে মামলা করে। কানাডা আদালত বিশ্বব্যাংকের উত্থাপিত সব অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে রায় দেয়। সব দুর্নীতির অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়। আমরা বিশ্বব্যাংকের ঋণ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণের ঘোষণা দিলে জনগণের কাছ থেকে বিপুল সমর্থন পাই। জনতার শক্তি হৃদয়ে ধারণ করে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে আজ আমরা স্বপ্নের পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছি।

দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, দুর্নীতিমুক্ত বীরের জাতি হিসেবে বাঙালি নিজেদের বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে বজ্রকণ্ঠে উচ্চারিত- ‘সাত কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না’- এই চিরপ্রেরণার বাণীতে উজ্জীবিত হয়ে আমরা প্রমাণ করেছি আমাদের নিজস্ব সক্ষমতা।

পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার নিরবচ্ছিন্ন, সাশ্রয়ী ও দ্রুত যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হল উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিপুল সম্ভাবনাময় এই অঞ্চলের বহুমুখী উন্নয়নে এই সেতুর গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে শিল্পায়ন ও পর্যটন শিল্পে অগ্রসর এ অঞ্চলের উন্নয়নে নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। টুঙ্গীপাড়া জাতির পিতার সমাধিসৌধ, সুন্দরবন এবং কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতসহ নানা প্রত্নতাত্ত্বিক ও দর্শনীয় স্থানগুলোতে পর্যটকের আগমন বৃদ্ধি পাবে। নদী বিধৌত উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি ও মৎস্য সম্পদ আহরণ এবং দেশব্যাপী দ্রুত বাজারজাতকরণে পদ্মা সেতু বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইতোমধ্যে এ অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত পায়রা সমুদ্রবন্দর, বৃহৎ নদীগুলোর ওপর নির্মিত সেতু, রামপাল ও পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ মংলা সমুদ্রবন্দরের পূর্ণ ক্ষমতা ব্যবহারে পদ্মা সেতু যোগাযোগ ব্যবস্থায় সূতিকাগার হিসেবে কাজ করবে।

তিনি আরও বলেন, এই অঞ্চলে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ বেনাপোল, ভোমরা, দর্শনা প্রভৃতি স্থলবন্দরের মাধ্যমে আন্তঃদেশীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে। এ সেতুর মাধ্যমে দুই প্রান্তে বিদ্যুৎ, গ্যাস, অপটিক্যাল ফাইবারসহ পরিষেবাগুলোর সংযোগ স্থাপিত হবে। পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে সার্বিকভাবে দেশের উৎপাদন ১.২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে এবং প্রতিবছর ০.৮৪ শতাংশ হারে দারিদ্র্য নিরসনের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এ সেতু অনন্য অবদান রাখবে।

সরকারের ত্রাণ পৌঁছাচ্ছে না, এই সরকার বন্যার কারণ অনুসন্ধান করেনি:ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বন্যাকবলিত এলাকায় সরকারের ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছাচ্ছে না। যে  কারণে বন্যা হয় সেই কারণ বা সমস্যা সমাধানে কোনো ব্যবস্থা সরকার গ্রহণ করেনি। বরঞ্চ এটাকে বাড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

শুক্রবার(২৪ জুন) সকালে রাজধানীর খিলগাঁওয়ে ঢাকা সিটি করপোরেশনের ‘গুম’ হওয়া কাউন্সিলর চৌধুরী আলমের বাসায় তার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাত শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা জানান।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনারা দেখেছেন যে, দেশে একটা ভয়াবহ বন্যা চলছে সিলেট, সুনামগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চলে। আমি নিজে গতকাল (বৃহস্পতিবার) সিলেটে গিয়েছিলাম। নিজের চোখে না দেখলে এর ভয়াবহতা সস্পর্কে কোনো ধারণা করা যায় না। মানুষ যে কষ্টে আছে এবং তাদের কাছে যে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া, তাদের বাঁচার ব্যবস্থা করে দেওয়া, তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে দেওয়া- তার কোনো ব্যবস্থা সরকার করে নাই।

অথচ এই তথাকথিত অনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তিনি হেলিকপ্টারে গিয়ে ওপর দিয়ে ঘুরলেন উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ঘুরে তিনি সার্কিট হাউসের হেলিপ্যাডে নেমেছেন। সেখানে ১০জন লোককে টোকেন ত্রাণ দিয়েছেন এবং তারপরে তিনি বলেছেন, সব হয়ে যাবে। গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাত পর্যন্ত আমি যা খবর পেয়েছি এগুলো একেবারে কিছুই হয়নি।

সেনাবাহিনীর কাজ নিয়ে কিছুটা আশাবাদ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সেনাবাহিনী নামার পরে তারা সিস্টেমেটিক্যালি কিছু ত্রাণ রিমোট অঞ্চলগুলোতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। এ ছাড়া কিছু কাজ করছে বেসরকারি এনজিওগুলো।’

বিএনপি নেতাকর্মী ত্রাণ নিয়ে জনগণের পাশে আছে এমনই প্রসঙ্গ তুলে ফখরুল বলেন, আমাদের দলের নেতাকর্মীরা সবচেয়ে বেশি কাজ করছে। তারা নিজেদের পয়সা দিয়ে নৌকা ভাড়া করে ত্রাণ নিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে এবং ব্যাপক হারে কাজ করছে তারা।আমি আপনাদের মাধ্যমে সিলেটের নেতাদেরকে ধন্যবাদ জানাতে চাই।একইসঙ্গে আমি অবিলম্বে বন্যাকবলিত অঞ্চলগুলোকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করার দাবি জানাচ্ছি।

বন্যার কারণ হিসেবে মির্জা ফখরুল বলেন, হাওড়ে যে বড় রাস্তা হয়েছে, যেটা কিশোরগঞ্জের ইটনায় গিয়েছে। আমরা শুনেছি সেটা আমাদের রাষ্ট্রপতি মহোদয়ের একটা প্রাইজ প্রজেক্ট। ৩৩ কিলোমিটার এই রাস্তা। এই রাস্তায় সম্পূর্ণ পানির যে স্বাভাবিক প্রবাহ যেটাকে বন্ধ করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, আজকে যে পানি উজান থেকে নেমে আসে সেই পানি আপনার সিলেট-সুনামগঞ্জের হাওড় দিয়ে বেরিয়ে গিয়ে কিশোরগঞ্জ-নেত্রকোনার হাওড় দিয়ে মেঘনাতে গিয়ে পড়ে। অথচ পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বা গতিকে আজকে বন্ধ করা হয়েছে। যার ফলে এভাবে ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের ২৪ জুন রাজধানীর ফার্মগেট এলাকা থেকে ঢাকা সিটি করপোরেশনের ২০নং ওয়ার্ডের (সাবেক ৫৬নং ওয়ার্ড) সাবেক কমিশনার চৌধুরী আলমকে মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তার নিখোঁজ হওয়ার এই দিনটিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সকাল সাড়ে ১০টায় খিলগাওয়ে চৌধুরী আলমের বাসায় যান এবং তার সহধর্মিনী হাসিনা চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিবারের সদস্যদের বর্তমান অবস্থার বিষয়ে খবরাখবর জেনে নেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চৌধুরীর আলমের দুই ছেলে আবু সাঈদ চৌধুরী, আবু সাদাত চৌধুরী, দুই মেয়ে মাহমুদা আখতার, মাহফুজা আখতার ও চৌধুরী আলমের ছোটভাই খুরশীদ আলম।

বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি আবদুস সালাম, সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু, মহানগর নেতা আবদুল  হান্নান, ফারুক আহমেদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের নজরুল ইসলাম, বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান।