প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে এসি লাগিয়ে থাকেন যুবলীগ নেতার ছেলে

0
722

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার হিসেবে সারাদেশে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও হতদরিদ্র পরিবারগুলোর মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় গৃহনির্মাণ করা হয়। এই ঘর নিয়েই এবার অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক নেতারা দলীয় পরিচয়ে পাচ্ছেন সেইসব ঘর। সেই ঘরেই নিজের আয়েশের সামগ্রী বসিয়ে কাটাচ্ছেন রাজকীয় জীবন। পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে সাম্প্রতিক সময়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র (এসি) ঝুলতে দেখা গেছে।

স্থানীয়রা প্রথমে হতদরিদ্র হিসেবে আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর বরাদ্ধ পাওয়া ব্যক্তি কিভাবে তার বাড়িতে এসি লাগিয়েছেন এ নিয়ে প্রশ্ন তুলে পরে খোঁজ নিয়ে জানা বিস্তারিত জানতে পারে এলাকাবাসী। এ ঘরটি যুবলীগ নেতার সন্তানের দখলে রয়েছে।

এই ঘরের মালিকের নাম মো. ইকবাল সেপাই। তিনি জাতীয় পার্টির (জেপি) সহযোগী সংগঠন জাতীয় ছাত্রসমাজের পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী উপজেলার ৩ নম্বর বালিপাড়া ইউনিয়ন শাখার আহ্বায়ক। তার বাবা আলমগীর সেপাই বালিপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক।

রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা হওয়ার সুবাদে দলীয় সুপারিশে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ওই ঘরটি তিনি বরাদ্দ পেয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ঘরের মালিক ইকবাল বর্তমানে ড্রেজিং ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। প্রতি মাসে তার আয় ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা। চলাফেরা করেন প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের মোটরসাইকেলে। তার চলাফেরা কিংবা বেশভূষা দেখে অনেকেই বিভ্রান্ত হন যে তিনিই হতদরিদ্র মানুষ যে কিনা আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পেয়েছেন।

এ বিষয়ে ইকবালের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি একটি গণমাধ্যমকে বলেন, এখন আমি ব্যবসা করি। এর আগে যখন আমার সমস্যা ছিল তখন আমি ঘর পেয়েছি। আমি গরম সহ্য করতে পারি না। তাই ঘরে এসি লাগিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে আমাকে সাংবাদিকসহ অনেকে ফোন করছে। আমার টাকায় এসি লাগিয়েছি। এতে দোষের কী হলো!

জানা যায়, ইন্দুরকানী উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৫৪৪টি ঘরের কাজ শেষ হয়েছে। এসব ঘরে বাসিন্দারা বসবাস করছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেক স্বচ্ছলকে আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে অনেক অসহায় পরিবারই এখনো সেই আগেকার দীর্ণ ঘরেই মানবেতর জীবনযাপন করছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বালিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কবির হোসেন বয়াতি বলেন, মহাজোটের শরীক জাতীয় পার্টির (জেপি) স্থানীয় সংসদ সদস্যের কোটায় অনেক স্বচ্ছল ব্যক্তি রাজনৈতিকভাবে আশ্রয়ণের ঘর পেয়েছে। সেখানে এসি লাগিয়েছি কিনা জানিনা।

আশ্রয়ণের প্রকল্পে ঘর নির্মাণের দায়িত্বে থাকা উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, গৃহহীনের তালিকায় ইকবাল সেপাই আশ্রয়ণের ঘর পেয়েছে। ওই ঘরে সে পুরাতন একটি এসি লাগিয়েছে বলে লোকমুখে শুনেছি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুৎফুন্নেসা খানম বলেন, ঘর যখন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তখন আমি ছিলাম না। ইকবাল নামে এক ব্যক্তি তার আশ্রয়ণের ঘরে এসি লাগিয়েছে বলে শুনেছি। ঘর বরাদ্দে কোনো অসংগতি আছে কিনা সে বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here