পদ্মা সেতুর আনন্দ নষ্ট করতে যে শিক্ষকদের ওপর হামলা হয়নি, তা বলা যাবে না: উপমন্ত্রী

0
193

পদ্মা সেতুর আনন্দ–উৎসব বিনষ্ট করতে যে শিক্ষকদের ওপর হামলা হয়নি, তা বলা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করার প্রাক্কালে ও তার পরবর্তী সময়ে সারা দেশে আনন্দ-উৎসব বয়ে গেছে, সেগুলোকে বিনষ্ট করার জন্য ষড়যন্ত্রকারীরা নানা জায়গায় চেষ্টা করেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনে স্বাধীনতা শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশন আয়োজিত ‘শিক্ষক নির্যাতন, হত্যাকাণ্ড: ভূলুণ্ঠিত মূল্যবোধ ও মানবিকতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সাভারের আশুলিয়ায় কলেজশিক্ষক উৎপল কুমার সরকার হত্যা ও নড়াইলে কলেজের অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে দাবিতে এ সভা হয়।

শিক্ষা উপমন্ত্রী করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ফলে অনুষ্ঠানে উপস্থিত না হয়ে মুঠোফোনে যুক্ত হয়ে এমনটা জানান।

মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে, সামাজিকভাবে নানা ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করতে চেষ্টা হচ্ছে। এর সার্বিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এ ঘটনাগুলো যে ঘটানো হয়নি, এটা বলা যাবে না।

২৫ জুন পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হয়। ওই দিনই সাভারের স্কুলশিক্ষক কুমার সরকারকে স্ট্যাম্প দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করে দশম শ্রেণির এক ছাত্র। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিক্ষক উৎপল মারা যান। আর নড়াইলের শিক্ষক স্বপন কুমার বিশ্বাসের গলায় জুতোর মালা পড়িয়ে নিগ্রহের ঘটনা ঘটে ১৮ জুন।

উপমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব ঘটনা উদ্‌ঘাটন ও দায়ী সব ব্যক্তিকে জবাবদিহির আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের সব পর্যায়ে নির্দেশনা দিয়েছেন।
ইতিমধ্যে এসব ঘটনায় বেশ কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। শিক্ষক হত্যায় অভিযুক্ত ব্যক্তির বাবাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

নড়াইলে শিক্ষক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা নিয়ে শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় একটি আলাদা তদন্ত করছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসক, শিক্ষা অফিসারসহ তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা আজকের মধ্যে একটি প্রতিবেদন দেবে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খুলনা থেকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই বিষয়টি তদারক করছেন।

শিক্ষা উপমন্ত্রী আরও জানান  শিক্ষকদের সঙ্গে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, এতে শিক্ষকদের সঙ্গে সমব্যথী এবং এসব ঘটনা অপমানের বিষয়।

স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের (স্বাশিপ) সভাপতি অধ্যাপক আবদুল মান্নান চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং এ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের মহাসচিব অধ্যাপক কামরুল হাসান খান, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ গোলাম ফারুক, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ওয়াহিদুজ্জামান ও একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক অজয় দাসগুপ্ত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here