প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে সেই প্রেমিকাকে খুন

0
138

প্রস্তাব দিয়েছিলেন প্রেমের কিন্তু প্রত্যাখ্যান হয়ে সেই তরুণীকেই হত্যা করলেন যুবক। শেরপুরের নকলা উপজেলায় এ ঘটনাটি ঘটে। ছুরিকাঘাতে নিহত সেই কলেজছাত্রী তরুণীর নাম সোহাগী আক্তার (২০)।

সোমবার(৪ জুলাই) ভোরে নকলা উপজেলার কায়দা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, নিহত কলেজছাত্রী সোহাগী  কায়দা গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে এবং নকলা সরকারি হাজী জাল মাহমুদ কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের পূর্ব সিয়ারচর লালথা গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে আরিফুল ইসলাম (২৮) এর সঙ্গে মোবাইল ফোনে পরিচয় হয় সোহাগী আক্তারের। প্রায় চার-পাঁচ মাস কথা বলার পর কিছুদিন আগে দু’জনের সামনা-সামনি দেখা হয়। গত রমজান মাসে প্রথম দেখার পরই সোহাগী বুঝতে পারেন- যুবকের মানসিক সমস্যা রয়েছে। এরপরই তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরে অনেক চেষ্টা করেও আরিফুল সোহাগীর সঙ্গে কথা বলা কিংবা যোগাযোগ করতে না পেরে ভীষণ ক্ষুব্ধ হন। এক পর্যায়ে সোহাগীকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন এবং সেলক্ষ্যে প্রস্তুতি নেন।

পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার রাতের কোনো এক সময় আরিফুল ইসলাম সোহাগীদের বাড়ির বাইরে রান্নাঘরে অবস্থান নেয়। সোমবার ভোররাতে সোহাগীর বাবা ফজরের নামাজ পড়ার জন্য ঘর থেকে বের হওয়ার সময় আরিফুল তাকে ছুরিকাঘাত করতে থাকেন। চিৎকার শুনে সোহাগী ও বাড়ির লোকজন বের হয়ে আসলে বাবাকে ছেড়ে সোহাগীকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করতে থাকেন আরিফুল। এসময় বাবা-মেয়ে দু’জনেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে প্রতিবেশীরা তাদের উদ্ধার করে নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে দায়িত্বরত চিকিৎসক সোহাগীকে মৃত ঘোষণা করে মুমূর্ষু শহিদুল ইসলামকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর জন্য জানিয়ে দেয়।

ঘটনার বিষয়ে নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুসফিকুর রহমান জানান, ছুরিকাঘাতের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আরিফুলকে আটক করি। সে হত্যার দায় স্বীকার করে বলেছে- ‘আমার লগে সম্পর্ক রাখে নাই, তাই ওরে দুনিয়া থেইকা সরায়া দিলাম।’

আটক আরিফুলের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার প্রক্রিয়া চলছে। আর নিহতের মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিকেলে আসামিকে আদালতে নেওয়া হবে বলেও জানান ওসি মুসফিকুল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here