চাঁদা না পেয়ে মিথ্যা মামলা দেওয়া সেই ডিবি কর্মকর্তার পদোন্নতি

0
171

চাঁদাবাজিতে অভিযুক্ত ডিবি কর্মকর্তার পদোন্নতি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তিন লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছিলো সেই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তবুও কোন ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি ডিবির এক কর্মকর্তাসহ পুরো টিমের বিরুদ্ধে।

পুলিশের নিজস্ব তদন্তে এসব মামলা মিথ্যা হওয়ার প্রমাণ মিলেছে, ভুয়া সাক্ষী, ভুয়া জবানবন্দির বিষয়টি উঠে এসেছে তদন্তে। এসব সত্ত্বেও অভিযুক্তদের পছন্দসই স্থানেই বদলি আর পদোন্নতি হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কতিপয় কর্মকর্তাদের একাধিক সম্মানসূচক বিভাগীয় পুরস্কার পেয়েছেন বলেও জানা গেছে।

এ ঘটনাটিকে আইনের দৃষ্টিতে চরমভাবে  উদ্বেগজনক হিসেবেই দেখছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর পল্টন এলাকায় বন্ধু আবাসিক হোটেলে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে সাদা পোশাকের কয়েকজন রিসিপশন কাউন্টারে থাকা হোটেল ম্যানেজারের হাতে হাত কড়া পরাচ্ছেন। সিসি টিভি ক্যামেরায় এ ঘটনার দৃশ্য ধরা পড়ে। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে ক্যামেরা নষ্ট করে ফেলেন সংশ্লিষ্ট এক সদস্য। ম্যানেজারসহ দুজনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় মিন্টু রোডে ডিবির কার্যালয়ে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী হাসান মজুমদার আক্ষেপ নিয়ে বলেন, তাদের কেন শাস্তি হবে না? তারা বাইরে ঘুরে বেড়াবেন আর আমি আদালতের বারান্দায় বারান্দায় ঘুরবো, এটা কেন হবে? আইন তো সবার জন্য সমান।

হাসান জানান, আমাদের ডিবি কার্যালয়ে  নিয়ে যাওয়ার পর চাহিদা অনুযায়ী ৩ লাখ টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় জাল টাকার মামলায় রিমান্ডে নেয়া হয়। দেয়া হয় আরও  মামলা।

এই মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর বিকেলে মতিঝিলের ফকিরেরপুলে জাল টাকা বিক্রির সময় হাসানের হাতে থাকা ব্যাগে ২০ লাখ এবং সহযোগী সোহেল রানার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেয়া ডিবি ইনস্পেক্টর তপন কুমার ঢালি বাদী হয়ে মামলা করেন।

এ মামলায় প্রায় ৬ মাস কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্ত হয়ে বিভাগীয় তদন্তের আবেদন করেন ভুক্তভোগী। পরে পুলিশের তদন্তে ডিবি পুলিশের অসৎ উদ্দেশ্য পরিষ্কার হয়েছে বলে প্রতিবেদন দেয়া হয় আদালতে। তবে পুলিশ হেডকোয়ার্টার ও অন্যান্য অফিসের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও ন্যায় বিচার না পাওয়ার আক্ষেপ হাসানের।

প্রতিবেদনে উঠে আসে, ইনস্পেক্টর তপন কুমার ঢালির জোগাড় করা স্বাক্ষীরা এজহারের মতো করে হুবহু জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়াও অভিযানে অংশ নেয়া প্রত্যেক কর্মকর্তা একাধিক বিভাগীয় পুরষ্কার পেয়েছেন। যার মধ্যে ভুয়া মামলার বাদী তপন কুমার পেয়েছেন ৭৬টি পুরষ্কার।

এ ঘটনা পর্যাবেক্ষণ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ ঘটনার ফলে পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

এদিকে ভুয়া মামলা থেকে মুক্তি পেতে প্রধানমন্ত্রী, আইজিপি, ডিএমপি কমিশনারসহ বিভিন্ন জায়গায় আবেদন করেও সুরাহা পাচ্ছেন না ভুক্তভোগী হাসান মজুমদার।

তবে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও অভিযুক্তকে ছাড় দেয়া হয়েছে বা ধামাচাপা দেয়ার মতো কিছু ঘটতে পারে না বলেই ধারণা সাবেক আইজিপি কেএম শহীদুল হকের।

পুলিশের নিয়োগ জালিয়াতিসহ একের পর এক ফৌজদারি অপরাধ করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বদলে ভালো পোস্টিং-পদোন্নতির বিষয়ে উদ্বিগ্ন টিআইবি।

কয়েকটি সূত্রে জানা যায়, পুলিশের অ্যাডমিন অ্যান্ড ডিসিপ্লিন শাখার প্রভাবশালী একটি চক্রকে ম্যানেজ করেই পার পাওয়ার চেষ্টা করছেন অভিযুক্তরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here