বস্তাবন্দি কিশোরীকে জীবিত উদ্ধার; ঘটনার নেপথ্যে ‘ছবি তোলা’এক নারী আটক

0
177

গতকাল বৃহস্পতিবার চাঞ্চল্যকর উপায়ে ঠাকুরগাঁওয়ের টাঙ্গন নদীর পাড় থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় জীবিত কিশোরীকে উদ্ধারের ঘটনায়  গুলশান বেগম ওরফে গুলজান নামে অভিযুক্ত এক নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার নেপথ্যে থাকা এ নারী ভুক্তভোগী কিশোরী বিভিন্ন অপ্রীতিকর ছবি তুলে তাকে ব্ল্যাকমেইল করতো বলে জানা গেছে।

শুক্রবার (২২ জুলাই) দুপুরে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ থানার কবিরাজহাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ থানার কবিরাজহাটের বিজয়নগর হাজীপাড়া বাসিন্দা ওই নারী। তার স্বামীর নাম আজিদুল ইসলাম অপু।

এদিকে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভুক্তভোগী কিশোরী মাহফুজা খাতুনের ভাই ঠাকুরগাঁও সদর থানায় ধর্ষণ ও অপহরণের মামলা করেন। মামলায় আসামি করা হয়েছে কিশোরীর কথিত স্বামী সাহাবুল ইয়ামিন ও গুলশান বেগমসহ চার জনকে। আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে টাঙ্গন নদীর পাড় থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় কিশোরীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। ১৪ বছর বয়সী ওই মেয়ের বাড়ি দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায়। সে ঠাকুরগাঁওয়ের একটি মাদ্রাসার আবাসিকে থেকে পড়াশোনা করছে।

উদ্ধারের পর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে ওই কিশোরী বলে, আমাদের গ্রামের বাড়িতে গুলশান নামের এক নারী ভাড়া থাকতেন। তিনি গোপনে আমার কিছু ছবি তুলে ব্ল্যাকমেল করে আসছিলেন। আমাকে পাচার করে দেওয়ার হুমকিও দিতেন। পরিবারকে বিষয়টি জানালে তাদের পরামর্শে মে মাসের শেষ দিকে ঠাকুরগাঁও শহরের একটি মাদ্রাসায় ভর্তি হই।

কিশোরী আরও জানান, বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে তাহাজ্জুদ নামাজের জন্য অজু করতে বের হই। অজু শেষে দেখি চার ছেলে আমার সামনে দাঁড়িয়ে। তারা বলে, আমার ছবিগুলো নিতে চাইলে হাত বাড়াতে। হাত বাড়ানো মাত্রই তারা আমাকে টেনে নিয়ে চলে যায়। এরপর মারধরের একপর্যায়ে তারা আমাকে বস্তায় ঢুকিয়ে ফেলে। এরপর থেকে আর কিছুই আমি বলতে পারি না।

বিয়ের বিষয়ে স্বীকার করে সেই কিশোরী বলেন, তিন মাস আগে আমার বিয়ে হয়েছে। তবে পারিবারিকভাবে নয়। এ নিয়েও ঝামেলা চলছে। আমি স্বামীর সঙ্গে থাকছি না।

অপহরণকারীরা তাকে কেন ফেলে গেলো– জানতে চাইলে জবাবে কিশোরী বলেন, সম্ভবত কয়েকজন লোক (স্থানীয়) সে সময় আসছিল। তাই ফেলে গেছে।

এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই পিযুস দাস জানান, অভিযুক্ত গুলশানকে তার গ্রামের বাড়ি বীরগঞ্জ থানার কবিরাজহাট থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে ঠাকুরগাঁও চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হলে কারাগারে পাঠানো নির্দেশ দেওয়া হয়। তার সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। আজ ছুটির দিন হওয়ায় পরবর্তী কর্মদিবসে রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here