অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবি; সন্দেহের তীরে রোহিঙ্গা চক্র

0
111

ঘর থেকে কাজের কথা বলে ডেকে নিয়ে দুই বাংলাদেশি যুবককে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ উঠেছে একটি ‘রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী চক্রের’ বিরুদ্ধে। কক্সবাজারের টেকনাফ শামলাপুরে এ ঘটনাটি ঘটেছে।

গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে এই অপহরণের পর দুইদিন পার হলেও এখন পর্যন্ত সেই দুই যুবকের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পুলিশ সেই যুবকদের খোঁজ না পেলেও চক্রটি অপহৃতদের পরিবার ও স্বজনদের কাছে মোবাইলে ফোন করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চেয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

এ ঘটনায় অপহৃত সেই দুই যুবক হলেন- টেকনাফ উপজেলা শামলাপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের নোয়াহালী পাড়ার ইলিয়াসের ছেলে মোহাম্মদ মুবিনুল (২৫) ও মোহাম্মদ ইসমাঈলের ছেলে মোহাম্মদ নূর (২০)।

অপহৃত মুবিনুলের বাবা ইলিয়াস  বলেন, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে আমার ঘরে কিছু মানুষ আসে। প্রথমে দরজা খুলতে বলে। এরপর আমার ছেলেকে ডাকে। কিছু কথা আছে বলে তাকে কিছু দূরে নিয়ে যায়। আমি জিজ্ঞেস করলে তারা বলে, তার সঙ্গে তাদের কিছু কথা আছে। এরপর আমার ছেলেকে তুলে নিয়ে যায় তারা। আমি এলাকার মানুষ ডাকলে তারা পাহাড়ের দিকে চলে যায়।

তিনি বলেন, কিছুক্ষণ পর তারা খবর দেন ১০ লাখ টাকা দিলে আমার ছেলেকে জীবিত ফিরিয়ে দেবে। আমি এই ঘটনার খবর পুলিশকে দিলে তারা ছেলেকে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিয়েছে।

বাংলাদেশি ২ যুবকদের অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে টেকনাফ শামলাপুর ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (আইসি) নূর মোহাম্মদ বলেন, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা দুইজন বাংলাদেশিকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করছে। পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় সেখানে অভিযান পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবুও আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

শামলাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইলিয়াস বলেন, কাল রাত ১১টার দিকে আমার ওয়ার্ডের দুই জনকে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী আলিয়াকিন অপহরণ করে নিয়ে যায়। তাদের এখনো পর্যন্ত কোনো খোঁজ খবর মেলেনি। শুধু এরা দুইজন নয়, এর আগেও ২০-২৫ জনকে অপহরণ করেছে এই রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী।  র্যাজব, পুলিশ আলিয়াকিনদের বিরুদ্ধে যখন অভিযান শুরু করে তখন তারা শামলাপুর নোয়াহালী বনের মাঝখানে অবস্থান করে।

এই ইউপি সদস্যের দাবি করেন, কয়েকজন স্থানীয়কে নিয়ে এই চক্রটি সক্রিয় হয়ে ওঠে। একদিন পর পর অপহরণ করে নিয়ে যায়। তাদের অপহরণ কোনোভাবেই থামছে না। এই বিষয়টি আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অনেকবার বলেছি। তারপরও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না । এলাকার মানুষ খুব আতঙ্কে আছেন।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, অপহরণের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। অপহৃতদের উদ্ধারে পুলিশ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here