ভোলায় পুলিশের গুলিতে বিএনপি কর্মী নিহত; দুইদিনের কর্মসূচি ঘোষণা

0
124

আল এমরান, ভোলা প্রতিনিধি: ভোলায় বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ৩০ গুলিবিদ্ধসহ প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনায় বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনগুলো ২ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছে পৃথক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অঙ্গসংগঠন নিশ্চিত করেছে।

রবিবার (৩১ জুলাই) সকাল সাড়ে এগারোটা সময় জেলার মহাজনপট্রি রোডে অবস্থিত বিএনপির কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

বিএনপির কর্মসূচি সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুতের সীমাহীন লোডশেডিং ও জ্বালানি খাতে অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে বিএনপির কেন্দ্র-নির্দেশীত বিক্ষোভ সমাবেশের অংশ হিসেবে ভোলা জেলা বিএনপি এই বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেন। বিএনপির এ সমাবেশের শুরুতে মিটিয়ের পর বিক্ষোভ মিছিলের জন্য ব্যানার নিয়ে তারা রাস্তায় বের হলে পুলিশ বাধা দেয়। একপর্যায় নেতাকর্মীরা সামনে অগ্রসর হওয়ার জন্য চেষ্টা করলে তাদের সাথে পুলিশের বাকবিতন্ডা শুরু হয়। এমন পরিস্থিতিতে পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ শুরু করলে নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়লে পরিস্থিতি সংঘাতের দিকে মোড় নেয়। এ সময় পুলিশ ও ডিবি কর্মকর্তারা গুলি, রাবার বুলেট ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। ঘটনাস্থলে আব্দুর রহিম নামের একজন যুবদল কর্মী নিহত হন। এ ঘটনায় জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক হারুনর রশীদ ট্রুমেন সহ আহত হন প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী।

নিহত রহিম ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়ন ৯নং ওয়ার্ডের কোরালিয়া এলাকার বাসিন্দা এবং সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য ও দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন বলে জানা গেছে।

গুরুতর আহতদের মধ্যে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. নুরে আলম কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তিনি ঢাকা গ্রীনরোডে কমফোর্ট হাসপাতালে আইসিইউ’তে রয়েছেন। এতে আহত হন পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা মো. রায়হান, চরসামাইয়া ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা মো. লিখন ও ছাত্রদল নেতা মো. অমিত। তারা এ মুহূর্তে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে ভোলা জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব গোলাম নবী আলমগীর বলেন, ‘আমরা ব্যানার নিয়ে রাস্তায় বিক্ষোভ মিছিল শুরু করবো এমন অবস্থায় কোন ধরনের উস্কানি ছাড়াই পুলিশ আমাদের নেতাকর্মীদের উপর লাঠিচার্জ শুরু করে এবং গুলি ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এতে আমাদের বিএনপির একজন কর্মী আব্দুর রহিম ঘটনাস্থলেই মারা যান। দীর্ঘদিনের শান্তিপূর্ণ ভোলায় অশান্তির বীজবপণ করেছেন।

মো. আসিফ আলতাফ নামের এক বিএনপি নেতা বলেন, ‘আমি পুলিশের এ ধরনের কর্মকাণ্ডে হতভম্ব। পুলিশ ও সরকারে ভিত নড়ে গেছে তাই তারা এতটা বেপরোয়া হয়ে পড়ছে। কারণ এরা জানে এদেরকে ঠিকমত একটা ধাক্কা দিলে পড়ে যাবে।

আমাদের একজন কর্মী তো নিহত হয়েছেই আরেকজন চোঁখ হারিয়ে অন্ধ হয়ে গেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় কয়েকজন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আছেন। তিনি এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সকল দ্বায় সরকারকে নিতে হবে বলেও জানান তিনি৷

জেলা পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, কিছু পুলিশ সদস্যের উপর ইটপাটকেল ছুঁড়া বিএনপির পূর্বপরিকল্পিত।

এদিকে, ঘটনার প্রতিবাদে বিএনপিসহ স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল ও ছাত্রদল সারাদেশের জেলা ও মহানগরে দুইদিনের কর্মসুচি ঘোষণা করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here