যবিপ্রবি ছাত্রলীগের নতুন সম্পাদক হত্যা-ডাকাতি মামলার আসামি

0
139

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদ পেয়েছেন তানভীর ফয়সাল। তিনি ছাত্রলীগ কর্মী নাইমুল ইসলাম রিয়াদ হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের মশিয়ুর রহমান হলে ডাকাতির মামলারও এজাহারভুক্ত আসামি তিনি।

এছাড়াও সহ-সভাপতি আল মামুন সিমনও হলে ডাকাতির মামলার অন্যতম আসামি। ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের বাদ দিয়ে বিতর্কিত নেতাদের কমিটিতে স্থান দেয়ায় ছাত্রলীগের অভ্যন্তরে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, রোববার রাতে (৩১ জুলাই) রাতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আল-নাহিয়ান খান ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে আগামী এক বছরের জন্য যবিপ্রবি ছাত্রলীগের ১১ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে সোহেল রানাকে সভাপতি ও তানভীর ফয়সালকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়।

কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার প্রায় আড়াই বছর পর ছাত্রলীগের এই নতুন কমিটি দেওয়া হয়েছে। কমিটিতে ৪ জন সহ-সভাপতি হলেন আফিকুর রহমান অয়ন, নাজমুস সাকিব, মেহেদী হাসান ও আল মামুন সিমন। তিনজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হলেন কামরুল হাসান শিহাব, এসএম ইকরামুল কবির দ্বীপ ও নূর মোহাম্মদ টনি। দুইজন সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন মনিরুল ইসলাম হৃদয় ও মুরাদ পারভেজ।

এই কমিটি নিয়ে ক্ষোভ থাকলেও ত্যাগী ও বঞ্চিতরা প্রকাশ্যে মুখ খুলছে না। তাদের দাবি, অনিয়মিত ছাত্র, হত্যা ডাকাতির মামলার আসামি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা নেতারা কমিটিতে স্থান পেলেও বাদ পড়েছেন ছাত্রলীগের নিয়মিত সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ নেওয়া ক্লিন ইমেজের কর্মীরা।

২০১৪ সালের ১৪ জুলাই দুপুরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ও ছাত্রলীগ কর্মী নাইমুল ইসলাম রিয়াদকে কুপিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এই মামলায় ১১ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। ওই ১১ আসামির তালিকায় তিন নম্বরে রয়েছে তানভীর ফয়সালের নাম।

২০১৭ সালের ৫ অক্টোবরে যবিপ্রবির শহীদ মসিয়ুর রহমান হলে তৎকালীন শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম হাসানের নেতৃত্বে হল ডাকাতির ঘটনার ঘটে। এ সময় শিক্ষার্থীদের প্রায় ৩০০ ফোন, ১০০ ল্যাপটপ, নগদ অর্থসহ ডাকাতি হয়। ঘটনার তিন পর ৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি সুব্রত বিশ্বাস ২৫ জনের নামে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। সেই মামলায় ১১ নাম্বার আসামি করা হয় তানভীর ফয়সালকে। এ ঘটনায় ১০ নাম্বার আসামি করা হয় সদ্য ঘোষিত কমিটির সহ সভাপতি আল মামুন সিমনকে। এছাড়া যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এসএম ইকরামুল কবির দ্বীপ বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য বহিষ্কৃত হয়েছিলেন।

এ বিষয়ে যবিপ্রবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর ফয়সাল সাংবাদিকদের বলেন, আমি তো আদালতে দোষী প্রমাণিত হইনি। রাজনৈতিকভাবেই এসব মামলায় আমার নাম জড়ানো হয়েছে। মামলায় জামিনে আছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here