বিয়ে করেও স্বীকার করছেন না নাঙ্গলকোট ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদক!

0
172

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুল ইসলাম রুবেল ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল বিবাহিত। দুজনের বিয়ের ছবি ও কাবিননামা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। এরপরও তারা বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করছেন। 

এদিকে বিবাহিত হয়েও পদে থেকে কিভাবে দল চালাচ্ছেন- এমন অভিযোগ উঠেছে সভাপতি সাইফুল ইসলাম রুবেল ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে। 

এ নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় বইছে। কারণ গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিবাহিতদের বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কোনো পর্যায়ের কমিটিতে স্থান দেওয়ার কোনো বিধান নেই। তারপরও তারা বিয়ে করে কমিটির কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন।

সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২৫ অক্টোবর উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদন দেয় কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ। সভাপতি সাইফুল ইসলাম রুবেল চলতি বছরের ৭ জুলাই বিয়ে করেন পেরিয়া ইউনিয়নের মেটুয়া গ্রামের প্রয়াত আবুল হাশেমের মেয়ে অনামিকা সুলতানাকে। 

তার স্ত্রী নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক শ্রেণির দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। তাদের বিয়ের অনুষ্ঠানে দুই পরিবারের নিকটজনসহ বন্ধুরা উপস্থিত ছিলেন। বিয়ের একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। 

অপরদিকে সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল উপজেলার মৌকারা গ্রামের আব্দুল মান্নানের মেয়ে সালমা আক্তারকে বিয়ে করেন। সাত লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের কাবিননামা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। 

ছাত্রলীগের এই দুই নেতা বিয়ে করে দল চালাচ্ছেন। এ নিয়ে ফেসবুকসহ পুরো উপজেলায় নানা সমালোচনার ঝড় বইছে। 

ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের ৫-এর (গ) ধারা অনুযায়ী, বিবাহিত ব্যক্তি ছাত্রলীগের কমিটিতে স্থান পাবেন না এবং কমিটিতে ঢোকার পর বিয়ে করার অভিযোগ উঠলে পদ বাতিলের কথা বলা হয়েছে।

আবার এ উপজেলা কমিটি জেলা কমিটিকে পাশ কাটিয়ে গত ৩১ জুলাই রাতে পৌর মেয়র আব্দুল মালেকের ছেলে তানভীর মাহবুব অন্তরকে নাঙ্গলকোট সরকারি কলেজ সভাপতি ও বেলাল হোসাইন শিমুলকে পৌরসভা ছাত্রলীগের সভাপতি করে কমিটির অনুমোদন দেয়।
 
ছাত্রলীগের নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি কলেজ ও প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় কমিটি দেওয়ার ক্ষমতা শুধু জেলা কমিটির। এদিকে জেলা ছাত্রলীগের দেওয়া আগের কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়নি।

এ বিষয়ে সভাপতি সাইফুল ইসলাম রুবেল বলেন, আমি বিয়ে করিনি। আমার বিরুদ্ধে একটা গ্রুপ অপপ্রচার চালাচ্ছে।

সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল বলেন, আমার বিয়ের অভিযোগ অন্য রাজনৈতিক পক্ষ ছড়িয়েছে। এটা সঠিক নয়। 

এ বিষয়ে দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন রুবেল বলেন, নীতিমালায় সরকারি কলেজ ও পৌরসভা কমিটি গঠনের দায়িত্ব জেলা ছাত্রলীগের। 

বিয়ের অভিযোগ নিয়ে তিনি বলেন, বিয়ে করার অভিযোগ থাকলে ওই দুজন কোনোভাবেই কমিটিতে থাকতে পারবেন না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here