ছাত্রলীগ পেটালে পুলিশের বাড়াবাড়ি, বিরোধীদের মারলে পেশাদারি

0
33

বাংলাদেশের দক্ষিণের জেলা বরগুনায় ১৫ আগস্ট শোক দিবসে পুলিশ ছাত্রলীগের এক পক্ষকে এমপির সামনে পিটিয়েছে। আর এতেই ফুঁসে উঠেছেন ওই এমপি এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ ।

এরইমধ্যে বরগুনার অ্যাডিশনাল এসপি মহররম আলীকে বরিশালে বদলি করা হয়েছে। আরো পাঁচ পুলিশ সদস্যকে অন্য জেলার পুলিশ লাইনে পাঠানো হয়েছে। গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি। এখন বরগুনা আওয়ামী লীগ ওই অ্যাডিশনাল এসপিসহ দায়ী পুলিশ সদস্যদের বরখাস্তের দাবিতে আন্দোলন করছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “পুলিশ বরগুনায় বাড়াবাড়ি করেছে। এতটা বাড়াবাড়ি ঠিক হয়নি।”

অবশ্য প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের এই আচরণ নতুন কী না। আর পুলিশের বাড়াবাড়ি একমাত্র বরগুনায়ই ঘটেছে কী না। অন্য দলের নেতা কর্মীদের ওপর পুলিশ হামলা চালালে, লাঠি পেটা করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরগুনার ঘটনার মত প্রতিক্রিয়া জানান কী না। পুলিশের শীর্ষ কর্মকতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয় কী না?

মানবাধিকার কর্মী ও বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, “পুলিশের এই আচরণ নতুন নয়। তবে বিরোধীদের ওপর তারা চড়াও হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয় না। এবার সরকারি দলের লোকজনের ওপর হামলা হওয়ার কারণেই সরকার প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে, ব্যবস্থা নিচ্ছে।” আর পুলিশের সাবেক আইজি এবং আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সংসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য নূর মোহাম্মদ বলেন,“পুলিশের উচিত সবার সঙ্গেই সংযত আচরণ করা। সে সরকারি বা বিরোধী যে দলেরই হোক না কেন।”

বরগুনার ঘটনার কয়েকদিন আগে পাশের জেলা ভোলায় ৩১ জুলাই  নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশের গুলিতে দুই জন নিহত হয়েছেন। আর ওই হত্যার  প্রতিবাদে ঢাকাসহ সারাদেশে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশ বাধা দিয়েছে। কোথাও কোথাও লাঠিপেটা করেছে। ভোলার ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নেয়া হয়নি। এমনকি পুলিশের গুলি করাকে সরকারের পক্ষ থেকে যথার্থ বলে অভিহিত করা হয়েছে।

সূত্র: ডয়চে ভেলে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here