জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মান্তরিত শিক্ষিকা রিতু কুন্ডুর নতুন নাম ‘আয়শা জাহান’

0
2595

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রিতু কুন্ডু। গত বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণের কথা নিশ্চিত করেছেন। এবার তিনি নিজের নামও পরিবর্তন করেছেন।

মঙ্গলবার(২৩ আগস্ট) ঢাকা ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট দেবদাশ চন্দ্র অধিকারীর দেওয়া হলফনামার মাধ্যমে স্বেচ্ছায় নিজের নাম পরিবর্তন করেন রিতু কুন্ডু থেকে পরিবর্তন করে রাখেন ‘আয়শা জাহান’।

জবির এই শিক্ষিকার বাড়ি নীলফামারীর নালশামারী উপজেলায়। বাবা দুলাল কান্তি কুন্ডু ও মা মালা কুন্ডুর ঘরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। এখন পর্যন্ত তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।

গতবছরের ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, আমি ২০১৭ সালের ১৬ মার্চ ইসলাম গ্রহণ করেছি। কবে থেকে কীভাবে এ পথে যাত্রা শুরু হল, তা বলতে হলে বলতে হবে এ যাত্রা আসলে খুব অল্প দিনের বা অল্প সময়ের নয়, খুব ছোট থেকেই আল্লাহ আমাকে ইসলাম কবুলের জন্য তৈরি করেছিলেন। ছোটবেলা থেকে আজ পর্যন্ত জীবনের প্রতিটি ঘটনা, শিক্ষা, প্রতিবন্ধকতা আর সমাজের অসংগতি আমাকে ধীরে ধীরে ইসলামের পথে পরিচালিত করেছে। তাই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছি। তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব (কম্পারেটিভ রিলিজিয়ন) নিয়ে জ্ঞান অর্জন করেছি। শান্তির এ ধর্মে আমি দিক্ষিত হয়েছি প্রায় চার বছর আগেই।

এই শিক্ষিকা আরও বলেন , দীর্ঘ ২৯ বছরের বিভিন্ন ধর্ম নিয়ে পড়াশোনা ও জ্ঞানবুদ্ধির আলোকে আমি ইসলামের বিষয়ে এক মাসব্যাপী পড়াশোনা শুরু করি। ১৬ দিনের মধ্যেই আমি সত্য উপলব্ধি করি এবং ২০১৭ সালের মার্চে ইসলাম গ্রহণ করি। এই দীর্ঘ ২৯ বছর পর্যন্ত আমি নিজের পরিবার, সমাজ ও মানুষের আচার-ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করি। এ দীর্ঘ সময় অন্যান্য প্রধান সব ধর্মের গ্রন্থাবলি পাঠ করেছি। জাপানেও এ বিষয়ে পড়াশোনা করি। ২০১২ সালে এসে বুঝতে পারি, এগুলো মানুষ রচিত বই (ঐশী বাণী নয়)।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ২৯ বছর পর আমি পবিত্র কোরআনের বাংলা অনুবাদ নিয়ে পড়ালেখা করি। এর পাশাপাশি আমি হাদিসও পাঠ করি। সামনে কোরআনের যে সূরা আর হাদিস পেয়েছি, তাই মনোযোগ দিয়ে পড়েছি। মহান আল্লাহর নির্দেশনার কারণ ও বিধিনিষেধ নিয়ে চিন্তাভাবনা করি। কখনও এ বিষয়ে স্বপ্নও দেখেছি। তা হয়ত অনেকের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হবে। খুব ছোট থেকেই হয়ত আল্লাহ আমাকে ইসলাম কবুলের জন্য তৈরি করেছিলেন। ছোট থেকে আজ পর্যন্ত জীবনের প্রতিটি ঘটনা, শিক্ষা, প্রতিবন্ধকতা আর সমাজের অসংগতি আমাকে ধীরে ধীরে ইসলামের পথে পরিচালিত করেছে। আমি যখন বুঝতে পারলাম, আমাকে নামাজ পড়তে হবে, সেদিন থেকে টানা ১৪ মাস আমার নামাজ কাযা হয়নি। এরপর চাকরির কারণে দু-একবার কাযা হয়ে যায়। আমি যখন অনুভব করলাম, আমাকে পর্দা করতে হবে, সেদিন থেকে আমি হিজাব পরা শুরু করি।

নতুন নাম রাখার বিষয়ে গণমাধ্যমে তিনি বলেন, আমি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি, আল্লাহ আমাকে ইসলামের মতো মহান সত্য ধর্মের সন্ধান দিয়েছেন। আজ আমার যে নতুন পরিচয়; আয়শা জাহান নামের মাধ্যমে হয়েছে, সে জন্যও আমি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি।

আয়শা জাহান (বর্তমান নাম) নীলফামারী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও নীলফামারী সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের লোকপ্রশাসন বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ২০১৩ সালে তিনি রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পান এবং ২০১৭ সাল থেকে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগে শিক্ষকতা করছেন৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here