কবে থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, যা জানালেন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

0
77

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান বলেছেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে চায় মিয়ানমার। এরইমধ্যে ৩৪ হাজার ৪০০ জনের যে নাগরিক তালিকা দেয়া হয়েছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে, সেটি যাচাই-বাছাই করে এ তালিকা থেকেই প্রত্যাবাসন শুরু করবে দেশটি। আর আগামী মাসেই ( সেপ্টেম্বর ) প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে আশ্বাস দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জাতিসংঘের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত নয়েলিন হেইজার। পরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

এদিকে বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে ঢাকার ১৪টি দূতাবাস ও হাইকমিশন। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনে এ দেশে আসা রোহিঙ্গা সংকটের পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো এ অঙ্গীকার করে।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী দূতাবাস ও হাইকমিশনগুলোর মধ্যে আছে– অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশন, ব্রিটিশ হাইকমিশন, কানাডার হাইকমিশন, ডেনমার্কের দূতাবাস, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদল, ফ্রান্সের দূতাবাস, জার্মান দূতাবাস, ইতালির দূতাবাস, নেদারল্যান্ডস দূতাবাস, নরওয়ের দূতাবাস, স্পেনের দূতাবাস, সুইডেনের দূতাবাস, সুইজারল্যান্ডের দূতাবাস ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস।

বিবৃতিতে বলা হয়, ৫ বছর পর আমরা ২০১৭ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের ভয়ংকর ঘটনা স্মরণ করছি, যা প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমার থেকে তাদের বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য করেছিল। আমরা বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশের জনগণের প্রতি তাদের উদারতা এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অব্যাহত আশ্রয় দেয়ার জন্য গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আমরা আন্তর্জাতিক মঞ্চে রোহিঙ্গাদের দুর্দশার কথা তুলে ধরেছি। পরিস্থিতি অনুকূল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই প্রত্যাবাসন ও এই সংকটের সমাধান চাই।

এতে বলা হয়, আমরা মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর মিয়ানমারজুড়ে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা এবং গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবেদন উদ্বেগের সঙ্গে নোট করছি। আমরা মিয়ানমারে দায়মুক্তির সংস্কৃতির অবসানের আহ্বান জানাই।

এর আগে বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেনের সঙ্গে সাক্ষাতে জাতিসংঘের বিশেষ দূত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ায় বাংলাদেশ সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

তিনি চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা সমস্যা সম্পর্কে আন্তর্জাতিক মহলের মনোযোগ ধরে রাখতে এবং রাখাইনে প্রত্যাবাসন সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে জাতিসংঘ, আসিয়ান ও মিয়ানমারের প্রতিবেশী দেশগুলোতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তবে, এক্ষেত্রে মিয়ানমার সরকারের ভূমিকাই মুখ্য বলে তিনি স্বীকার করেন।

আজ বৃহস্পতিবার(২৫ আগস্ট) মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়ার পাঁচ বছর পূর্ণ হচ্ছে। এ সময়ের মধ্যেও রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে কোনো নিশ্চিত সিদ্ধান্ত হয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here