অ্যানালাইসিস: বুদ্ধিদীপ্ত ক্রিকেট ঠিক কবে খেলবে বাংলাদেশ?

0
152

৬ ওভারে দরকার ৬৩ রান। শারজাহর পিচে বল উঠছে না। খুব কষ্ট না হলে এখান থেকে বোলিং টিমের জয় আসাই স্বাভাবিক। তূণের শেষ অস্ত্র হিসেবে তখনো আছেন দলের সেরা বোলার আর ডেথ ওভার স্পেশালিস্ট! এরপরেও ম্যাচটা বোলিং করা দলটাই হেরেছে। আরো স্পষ্ট করলে ৯ বল আগে হেরেছে! হেরে যাওয়া দলটার নাম বাংলাদেশ! 

ভুলটা কোথায়? বাংলাদেশ প্রথমেই ম্যাচ থেকে ছিটকে গিয়েছিলো স্কোয়াড নির্বাচনে। অমন স্লো পিচটাই কি ম্যাচের আগে রিড করতে পারেনি টিম ম্যানেজমেন্ট! তাসকিনের মতো গতিশীল বোলার কেনো শারজাহর এমন পিচে সুবিধা পাবেন? দরকার ছিলো আরেকটা স্পিন অপশনের। মোসাদ্দেক হোসেন পার্ট-টাইম স্পিনার হলেও রীতিমতো ছড়ি ঘুরিয়েছেন কাল। সাকিব আল হাসান দলকে এনে দিয়েছিলেন নিখুঁত শুরু। তবে, ম্যাচ বাংলাদেশ হেরেছে দুই পেসারের কল্যাণে। ডেথ ওভারে আরেকটা স্পিন অপশন কি বাংলাদেশ পেতে পারতো না?

বুদ্ধির খেলাতেই হেরেছে বাংলাদেশ

ঠিক এই জায়গায় আফগানিস্তান যে এগিয়ে ছিলো তার প্রমাণ মিলেছে ম্যাচের পর। আফগান অধিনায়ক মোহাম্মদ নবী বারবার বলেছেন বুদ্ধিদীপ্ত ক্রিকেট প্রসঙ্গে। পিচ নিয়েও বলেছেন ম্যাচিউরড কথা।

‘এই উইকেটের মাটি নতুন। আর এই পিচে কেউ খেলেনি। তাই আগে বোলিং করে ভালো হয়েছে। পিচ সম্পর্কে জানার সুযোগ পেয়েছি। বুঝতে পেরেছি পিচ কেমন আচরণ করছে। সেটা কাজে লাগিয়েই আমরা দ্রুত উইকেট নিতে পেরেছি আর প্রতিপক্ষ দলকে চাপে রাখতে পেরেছি।’

আফগানিস্তান অধিনায়ক মোহাম্মদ নবী

মুজিব-উর-রহমান। ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ের উপর ঝড় বইয়ে দিয়েছেন শুরুতেই। মুজিবের বল আর বাংলার ব্যাটারদের ব্যাট যেন চুম্বকের দুই মেরুর মতোই। কাছাকাছিই আসছে না। অথচ মুজিব উইকেট নিয়েছেন এমন কজনের যারা শুধু অভিজ্ঞ না, কিছু ক্ষেত্রে পরীক্ষিত। বিজয় আর নাইমের কথা বাদ দিলেও সাকিবের আউটে প্রশ্ন তোলা যেতেই পারে। তবে সেটা আউটের ধরনে না, অ্যাপ্রোচে।

সাকিব আগের ওভারেই দুটো চার পেয়েছিলেন। পেস বোলারের বিপক্ষে পিচে তুলনামূলক বেশি সুবিধা নিশ্চয়ই আঁচ করেছিলেন। স্পিনে আগেই দুই উইকেট নেই। এরপরেও কেন মুজিবকেই টার্গেট করে বিগ শট নিতে চাইছিলেন সাকিব? ফলাফল মাত্র ৩ বলেই পেলেন। বিজয়ের মতো একইভাবে বলের অনেকটা উপর দিয়ে ব্যাট চালিয়েছিলেন। ফেলে ফলাফল উইকেটের পতন।

মান বাঁচিয়েছেন মোসাদ্দেক

ঠিক একইভাবে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও ভুল করেছিলেন অ্যাপ্রোচে। প্রথমেই বলে নেয়া দরকার। দলের ওই সময়ে রিয়াদ কাল যেভাবে খেলেছেন তা প্রশংসা করার যোগ্য। রিয়াদ ছয় মারেন না, লাস্ট ১৪ ইনিংসে ছক্কা মোটে ৪ টা… এসব অন্তত গতকালের জন্য না। তবে রিয়াদ ভুল করেছিলেন ‘গেইম রিড’ করতে গিয়ে। রাশিদ খানের পরেই ছিলো নাভিন উল হক কিংবা ফারুকির ওভার। দুজনেই কাল মার খেয়েছেন। রিয়াদের ঠিক রাশিদ খানের ওভারেই কেনো হিট করতে হয়েছিলো? সেই জবাব কি দেবেন এই সিনিয়র ব্যাটার?

বাংলাদেশ কেন ব্যর্থ? সেই প্রশ্নের জবাবটাও দিয়েছেন আফগান অধিনায়ক নবী।

‘এই উইকেট (ব্যাটিং) এতটা খারাপ ছিল না। হ্যাঁ মন্থর, ওরা আমাদের বোলারদের ওপর চড়াও হতে চেয়েছিল। যে কারণে উইকেট ছুড়ে এসেছে। আর ব্যাটিংয়ে আমরা শুরুতে বেশি উইকেট হারাইনি। চাপ হজম করে নিয়েছি। পরে প্রতি ওভারে ৯ থেকে ১০ রানও সহজে করতে পেরেছি।’

এভাবেও হেরে আসা যায়!

বোলিং ইউনিট বিবেচনায় বাংলাদেশ ভালোই করেছিলো বটে। ১২৮ রানের টার্গেটে আটকানোর জন্য দলের বোলাররা প্রাণান্ত চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিলেন। তবে বাংলাদেশ হেরে যায় ম্যাচের ১৭ এবং ১৮তম ওভারে। দেশসেরা পেসারের তকমা পাওয়া মুস্তাফিজ আর ডেথ ওভার স্পেশালিস্ট সাইফুদ্দিন দুজন মিলে দুই ওভারে দিয়েছেন ৩৯ রান।

ফিজের এক ওভারে ১৭ রান আসার পরেই মূলত ম্যাচের গ্রিপ হারিয়েছিলো বাংলাদেশ। আর সাইফুদ্দিন করলেন ভুলে যাওয়ার মতো এক স্পেল। প্রথমেই এসে উইকেট পেয়েছিলেন। এরপর এসে দিলেন ২২ রান! ম্যাচটা বাংলাদেশ হারলো ওই এক স্পিনারের ওভারে।

একেবারেই জেতা ম্যাচ হেরে আসা বাংলাদেশ এখন কি অন্তত একবার বুঝবে, ক্রিকেট শুধু ব্যাট বলের খেলা না, অনেকটা মগজ আর স্নায়ুর খেলা?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here