বাংলাদেশী গণমাধ্যম ভুল তথ্য প্রচার করেছে: অভিযোগ জাতিসংঘের

0
1734

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাশেলেতের বিদায়ী সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভুল তথ্য প্রচার জানিয়েছেন হাইকমিশনারের মুখপাত্র রবিনা শ্যামদাসানি।

মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমকে পাঠানো এক ই–মেইল বার্তায় বিষয়টি জানিয়েছেন তিনি। রবিনা শ্যামদাসানি বলেছেন, ‘আমরা দুঃখের সঙ্গে বলছি যে ভুল তথ্য প্রচার করা হয়েছে।’

এর আগে বাংলাদেশের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের প্রতিবেদনে বাংলাদেশে মানবাধিকার লংঘনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়নি।

রাবিনা শ্যামদাসানি বলেন, “আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে হাইকমিশনার বাংলাদেশ সরকার, সুশীল সমাজ ও সংশ্লিষ্ট অন্যদের সঙ্গে বৈঠকে মানবাধিকারসংক্রান্ত অনেক বিষয় নিয়ে তার উদ্বেগ তুলে ধরেছেন। ঢাকা সফর শেষে তার দেওয়া বিবৃতিতেও এ বিষয় উঠে এসেছে। হাইকমিশনার বাংলাদেশের মানবাধিকারসংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তৃতভাবে কথা বলায় মেয়াদপূর্তি উপলক্ষে ২৫ আগস্ট জেনেভায় দেওয়া বিবৃতিতে তিনি বৈশ্বিক বিষয়গুলোর ওপর আলোকপাত করেন। সেখানে জলবায়ু পরিবর্তন, খাবার, জ্বালানি তেল ও অর্থনৈতিক সংকট, সুশীল সমাজের কথা বলার অধিকারের মতো বিষয়গুলো ছিল। এসব বিষয় সব দেশেই রয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশও অন্তর্ভুক্ত। সেখানে রোহিঙ্গাদের দুর্দশার বিষয়টি উঠে আসে, ওই দিনই ছিল রোহিঙ্গাদের ওপর দমন-পীড়নের বছরপূর্তি। তা মানবাধিকার নিয়ে ‘বৈশ্বিক প্রতিবেদন’ ছিল না।”

ই–মেইল বার্তায় বলা হয়, বাংলাদেশ সফর শেষে ঢাকায় দেওয়া বক্তব্যে ব্যাশেলেত বলেছিলেন, মানবাধিকারসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জগুলো অতিক্রম করার প্রথম ধাপই হলো সেগুলো স্বীকার করে নেওয়া। হাইকমিশনার যেসব সুপারিশ করেছেন, সে অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ঢাকাকে সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তর। পাশাপাশি বাংলাদেশে মানবাধিকার রক্ষা ও তা এগিয়ে নিতেও সহায়তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে তারা।

ই–মেইল বার্তায় বলা হয়, মানবাধিকারসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জগুলো অতিক্রম করার প্রথম ধাপই হলো সেগুলো স্বীকার করে নেওয়া। সে অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ঢাকাকে সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দফতর।

উল্লেখ্য, ১৪ থেকে ১৭ আগস্ট বাংলাদেশ সফর করেন মিশেল ব্যাশেলেত। সফর শেষে সংবাদ সম্মেলনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকলে তা অস্বীকার না করে আমলে নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। এ ছাড়াও ৩১ আগস্ট জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের পদে তাঁর মেয়াদ শেষ হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here