বড় বড় অপরাধেই মেলে ছত্রলীগের বড় পদ!

0
144

কেউ হত্যা মামলার মতো বড় অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত, কেউবা ডাকাতি মামলায়, আবার কেউ মন্দির ভাঙচুরের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় সংগঠন থেকে, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও বহিষ্কার হয়েছিলেন। তবে এসব কোনো কারণই তাদের জন্য ছাত্রলীগের বড় পদ পেতে বাধা হয়নি।

দেখা গেছে ফৌজদারি আইনে অভিযুক্ত এসব ‘অপরাধী’’দের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শাখার বড় বড় পদে পদায়ন করে ‘পুরস্কৃত’ করেছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ ২ নেতা। গত ৩১ জুলাই রাতে ঘোষিত কয়েকটি কমিটি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, অন্তত ৩টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটিতে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।

জানা যায়, এ দিন একইসঙ্গে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আংশিক কমিটি এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি। এসব কমিটির শীর্ষ পদের জন্য মূলত নানা অপরাধে অভিযুক্ত নেতাদেরকেই বেছে নিয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আল নাহিয়ান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।

এর মধ্যে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নতুন সাধারণ সম্পাদক তানভীর ফয়সাল অন্যতম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র নাইমুল ইসলাম রিয়াদ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ১৪ জুলাই রিয়াদকে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় মামলার পরিপ্রেক্ষিতে, ২০১৫ সালে পুলিশ যাদেরকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে, সেই তালিকায় রয়েছে ফয়সালের নাম। পরে যবিপ্রবি কর্তৃপক্ষ তাকে ২ বার শৃঙ্খলাবিরোধী কার্যক্রমে জড়িত থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘সাময়িক’ বরখাস্ত করে।

সেই ফয়সালকে সাধারণ সম্পাদকের মতো বড় পদে রেখে ‘পুরস্কৃত’ করেছেন ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য। ঘোষণা করেছেন যবিপ্রবি শাখার ১১ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি। তবে শুধু হত্যা মামলা নয়, ফয়সালকে ২০১৭ সালের ৮ অক্টোবর যশোরের কোতোয়ালি থানার একটি ডাকাতি মামলায়ও আসামি করা হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মশিউর রহমান হল থেকে প্রায় ৩০০টি মোবাইল, ১০০টি ল্যাপটপ এবং অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র ডাকাতি হয় সেই সময়। এ ঘটনায় ২৫ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ফয়সাল তাদেরই একজন।

এদিকে শুধু ফয়সালই নন, নতুন কমিটিতে সহ-সভাপতি পদ পাওয়া আল মামুন সিমনও ওই ডাকাতি মামলার আসামি। একই কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম একরামুল কবিরের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। ২০১৯ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিলেন তিনি।

যবিপ্রবি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম দেখভালের দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আরিফ হোসেন রিফাত গণমাধ্যমকে বলেন, ‘যদিও আমি দায়িত্বে ছিলাম, তবে কমিটি দেওয়ার আগে কোনো ধরনের বর্ধিত সভা ডাকা হয়নি। এ ছাড়া তানভীর ফয়সালকে যে ওই শাখার শীর্ষ নেতা করা হচ্ছে, কিংবা একটা কমিটি দেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়েও আমাকে কিছু জানানো হয়নি। তবে হ্যাঁ, আমাদের হাতেও তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের বিষয়ে তথ্য ছিল।’

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখার নতুন কমিটির নেতার বিরুদ্ধেও ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। ইবিতে ২৪ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটির সভাপতি ফয়সাল সিদ্দিক আরাফাত হত্যাচেষ্টা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি।

বিগত কমিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক আরাফাতকে ২০১৬ সালের মার্চে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি মন্দির ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত থাকায় ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে, মাদক নেওয়ার অভিযোগে আটককৃত তার কয়েক অনুসারীকে পুলিশ ভ্যান থেকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনার মাসখানেক পরেই আরাফাতের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার ওপর আরোপিত বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেয় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ইবি শাখা ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক রকিবুল ইসলামকে হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি করা হয় আরাফাতকে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আরাফাত বলেন, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি আরও বলেন, ‘কেন্দ্রীয় কমিটি মন্দির ভাঙচুরের ঘটনায় আমার সম্পৃক্ততা না পেয়ে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের পূজা উদযাপন পরিষদও লিখিতভাবে জানিয়েছে, আমি ওই ঘটনায় জড়িত ছিলাম না।’

আরাফাত বলেন, ‘আমি যে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় যুক্ত ছিলাম না, ইবি থানা পুলিশ এই মর্মে লিখিত প্রত্যয়নপত্র দিয়েছে।’

ইবি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তন্ময় সাহা টনি বলেন, ‘আরাফাত ছাড়াও অযোগ্য অনেকেই যেমন পদ পেয়েছেন, আবার যোগ্য অনেককে বঞ্চিত করার উদাহরণ রয়েছে। নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক আগের কোনো কমিটিতে কোনো পদে ছিলেন না।’

তন্ময়ের অভিযোগ— ‘কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বড় অংকের টাকা লেনদেনের বিনিময়েই এ ধরনের পদ মেলে।’

ইবি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সমাজসেবা সম্পাদক স্বাধীন শাহেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় কমিটি আরাফাতের বিরুদ্ধে মন্দির ভাঙচুরের অভিযোগের সত্যতা পায়নি বিধায়, তার ওপর আরোপিত বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছিল। এ কারণে আমরা অন্য প্রার্থীদের সঙ্গে তার নামও তালিকার শেষে রেখেছিলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘সম্ভাব্য নেতাদের তালিকা করার সময় আমরা তাদের জনপ্রিয়তার বিষয়টিও বিবেচনা করি। আরাফাতের ক্ষেত্রে দেখেছি, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে তিনি বেশ জনপ্রিয়। এ কারণে তার নাম রাখতে হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিতর্কিত কাউকে কোনো কমিটির শীর্ষ পদের দায়িত্ব দেওয়া হোক, তা আমরাও প্রত্যাশা করি না। তবে আমরা যাদের নামই কমিটিতে রাখার জন্য প্রস্তাব করি না কেন, আমাদের কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারাই শেষ পর্যন্ত এই ২টি পদ (সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক) কারা পাবেন, তা বেছে নেন’, যোগ করেন তিনি।

চবি শাখা ছাত্রলীগের জন্য ঘোষিত ৩৭৬ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির মধ্যে অন্তত ১০ জন হত্যা ও অন্যান্য মামলার আসামি রয়েছেন বলে চবি ছাত্রলীগ নেতারা জানিয়েছেন। এর মধ্যে ২০১৪ সালে ছাত্রলীগ নেতা তাপস সরকার হত্যা মামলার আসামি প্রদীপ চক্রবর্তী ও জাহেদুল আউয়াল নতুন কমিটির সহ-সভাপতি পদ পেয়েছেন।

অপরদিকে যুগ্ম সম্পাদক পদ পাওয়া রাজু মুন্সিও হত্যা মামলার আসামি। তিনি ২০১৩ সালে চট্টগ্রামের সিআরবি এলাকায় ঘটে যাওয়া জোড়া খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত ছিলেন। মোফাজ্জল হায়দার ইবনে হোসেন ও মিজানুর রহমান খানকে ২০১৫ সালের সংঘর্ষের সময় ধারালো অস্ত্র হাতে দেখা গেছে। তাদেরকে এই কমিটিতে সহ-সভাপতি করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা গেছে।

চবি ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেনের ছাত্রত্ব নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। রেজাউল ২০০৬-০৭ সালে এবং টিপু ২০১০-১১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ফলে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্র হিসেবে থাকার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে।

এছাড়া সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মতোই নতুন কমিটিতে পদ পাওয়া অন্তত ২ ডজন নেতা নিয়মিত ছাত্র নন বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।

রেজাউল বলেন, ‘ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা বেশিরভাগ মামলাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এসব মামলার বাইরে আমাদের কোনো নেতা যদি অন্য কোনো সামাজিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকেন, তবে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।’

এসময় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন পরে চবি ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। তাই পদ পেতে গিয়ে অনেকেরই বর্তমানে ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে।’

তার ছাত্রত্ব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বলেন, ‘উপাচার্যের বিশেষ ক্ষমতাবলে এটা সম্ভব (ছাত্রত্বের মেয়াদ বাড়ানো)।’

ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এস এম মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘বিশেষ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অসুস্থতা কিংবা মানবিক বিবেচনায় ছাত্রত্বের মেয়াদ বাড়ানো হয়ে থাকে। তবে এর পরিমাণ সংখ্যায় নগণ্য।’

চবি শাখার সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক হায়দার রহমান জিতু বলেন, ‘চবি শাখা ছাত্রলীগ অনেকগুলো গ্রুপ ও উপগ্রুপে বিভক্ত। দীর্ঘদিন ধরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় সবাই শীর্ষ পদে যেতে মরিয়া। তাই কমিটিতে পদ দেওয়ার সময় আমাদেরকে অনেক কিছুই অ্যাডজাস্ট করতে হয়েছে।’

বিতর্কিত নেতাদের কেন পদ দেওয়া হয়েছে, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘কেউ যদি সংগঠনের শৃঙ্খলাবিরোধী কাজে জড়িত হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ যদি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ বরাবর তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে, সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সার্বিক বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ আরিফ হোসেন বলেন, ‘বর্তমান সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে এসব নতুন কোনো অভিযোগ না। তাদের বিরুদ্ধে এমন আরও অনেক অভিযোগ আছে যে তারা সংগঠনের সব শৃঙ্খলা ভেঙে, ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে এভাবে কমিটি দিচ্ছে।’

ডাকসুর সাবেক সদস্য, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, এই শাখাগুলোতে যাদেরকে পদ দেওয়া হয়েছে, তাদের চেয়েও যোগ্য প্রার্থী ছিলেন। যোগ্যদেরকে পদ না দিয়ে, অপেক্ষাকৃত বিতর্কিত নেতাদেরকে পদায়ন করার মাধ্যমে মূলত ছাত্রলীগকেই বিতর্কের মুখে ঠেলে দিয়েছে বর্তমান সভাপতি ও সম্পাদক। তাছাড়া, কমিটি দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা সংগঠনের বাকি নেতাদের সঙ্গে কোনো ধরনের সভা কিংবা আলাপ-আলোচনাও করেন না।’

এর পেছনে কী কারণ থাকতে পারে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যেহেতু যোগ্যদের বাদ দিয়ে অযোগ্যদেরকেই বেছে নেওয়া হয়েছে, সেহেতু এ কথা স্পষ্ট যে তারা ভিন্ন কোনো উপায়ে এসব নেতাদের সন্তুষ্টি অর্জন করেছেন।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক আল মাসুদ হাসানুজ্জামান বলেন, ‘সাধারণত ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনগুলো ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে থাকে। আর তাই শীর্ষ নেতারা কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে এই ধরনের নেতাদেরকেই বেছে নেয় এই ভেবে যে, হয়তো এ ধরনের নেতারাই ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘এটা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য নেতিবাচক লক্ষণ।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here