Home Blog Page 2

বৃদ্ধ বাবার টাকা ছিনিয়ে নিতে ছিনতাইকারীর সঙ্গে হাত মেলান ছেলে

নিজের বাড়ি থেকে পিটিয়ে বৃদ্ধ জয়নাল মিয়া ও তাঁর স্ত্রী হনুফা বেগমকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন তাঁদের তিন ছেলে। অভিমান করে জয়নাল মিয়া তাঁর বসতবাড়ির দুই কাঠা জমি ৩১ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেন। বাবার জমি বিক্রির সেই টাকা ছিনিয়ে নিতে জয়নাল মিয়ার তিন ছেলে হাত মেলান ছিনতাইকারীর সঙ্গে।

জমির বিক্রির সেই টাকা আদায় করতে ছিনতাইকারী জয়নাল মিয়াকে উপর্যুপরি কুপিয়ে তাঁর কাছ থেকে ৩১ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেন। রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার মানিকদী এলাকায় গত দুই মাস আগের এই ঘটনা। 

গতকাল শুক্রবার রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) রাজধানীর মিরপুর এবং গাজীপুর থেকে জয়নাল মিয়ার তিন ছেলে আবদুল হানিফ, আবদুল হান্নান ও আবদুল মান্নান এবং তাঁদের সহযোগী সোহেলকে হওয়া ২৯ লাখ টাকাসহ গ্রেপ্তার করে।

ডিবি পুলিশ বলছে, ভুক্তভোগী বৃদ্ধ জয়নাল মিয়ার বসতভিটা রাজধানীর মানিকদী এলাকায় অবস্থিত। স্ত্রীসহ সেখানেই তিনি থাকেন। ছেলেদের স্ত্রীরা বাবা-মাকে পছন্দ না করায় তিন ব্যবসায়ী ছেলে দুজনকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। সন্তানেরা মারধর করার পর জয়নাল মিয়া ও হানুফা বেগম একটি ভাড়া বাসায় ওঠেন।

গত ২৮ জুন  বসতভিটার জমি বিক্রি করেন
বৃদ্ধ জয়নাল মিয়া। জমি বিক্রির টাকা ব্যাগে নিয়ে রাইড শেয়ারিং সেবা পাঠাওয়ের মোটরসাইকেলে বাসায় ফিরছিলেন। একপর্যায়ে মানিকদীতে বাসার কাছে পৌঁছালে আবদুল হানিফ তাঁর অপর দুই ভাইকে নিয়ে মোটরসাইকেলের পেছনে বসা জয়নালকে লোহার রড দিয়ে আঘাত করলে তিনি রাস্তায় পড়ে যান। এ সময় জয়নালকে তাঁর জামাতা রক্ষা করতে এলে পিটিয়ে তাঁর পা ভেঙে দেন তাঁরা। একপর্যায়ে বৃদ্ধ মা এগিয়ে এলে তাঁকেও বেধড়ক পেটান সন্তানেরা।

আহতদের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা করা হয়। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় ডিবির গুলশান বিভাগ।

কর্মসূচিকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে: বুয়েট শিক্ষার্থীদের বিবৃতি

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের ব্যানারে আয়োজিত শোক সভার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিকে ভিন্ন দিকে নেয়ার অপচেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এবং এই অপপ্রচার তাদেরকে ভীত এবং ব্যথিত করেছে।

‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’ জানায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বুয়েট শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।

গতকাল বুয়েট শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির পর উদ্ভূত পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিতে রবিবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে বুয়েট ক্যাফেটেরিয়ার সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এসব কথা জানানো হয়।

লিখিত বক্তব্যে শিক্ষার্থীরা বলছেন, ‘গতকালের কর্মসূচি কোনোভাবেই শোক দিবসের অনুষ্ঠানবিরোধী ছিল না। ধর্ম, বর্ণ, রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে। তার চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সদা প্রস্তুত।’

বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, বঙ্গবন্ধু সর্বজনীন। তার চেতনা ধারণ করতে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের পরিচয় প্রয়োজন পড়ে না। বুয়েট ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা জাতীয় দিবসে নিয়মিত অনুষ্ঠান আয়োজন করে আসছে’ জানিয়ে বলা হয়, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও শনিবার রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের ব্যানার দেখে বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছাত্রকল্যাণ পরিচালককে জানান এবং কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামের সামনে অবস্থান নেন।

বুয়েট শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘লেজুড়বৃত্তিক ছাত্র রাজনীতির কালো থাবা নিরাপদ ক্যাম্পাসকে যেন পুনরায় ত্রাসের রাজত্বে পরিণত না করতে পারে, সেই আশঙ্কার জায়গা থেকে গতকাল সাধারণ শিক্ষার্থীরা সমবেত হয়। ’

তারা জানান, সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠান যথারীতি শেষ হয় সেখানে কেউ কোনো বাধা দেয়নি। বিক্ষোভের মূল উদ্দেশ্য ছিল ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের ব্যানার ব্যবহার করার অনুমতি দেয়ায় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জবাবদিহিতা আদায় করা। নৈতিকতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সব ধরনের বৈষম্যমূলক অপসংস্কৃতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারকে রুখে দিয়ে বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সদা প্রস্তুত।

সেক্ষেত্রে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে আমরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সব দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনে অবিচল থাকব।

এদিকে সোমবার বিকাল ৫টায় বুয়েট ক্যাফেটেরিয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের আয়োজনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে একটি স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে উপাচার্য বরাবর লিখিত আবেদনপত্রে বুয়েট কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া-মাহফিল আয়োজনের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।

আপনারা সবাই আমারে খায়া ফেললেন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

0

‘বেহেশতে’ থাকা নিয়ে বক্তব্যের জন্য দেশব্যাপী ব্যাপক সমালোচনার মুখে  আছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে একের পর এক ট্রল। এদিকে সাংবাদিকদের মন্ত্রী বলেছেন, তিনি কথার কথা বলেছেন। সেটা নিয়ে সাংবাদিকেরাই তাঁকে বিপাকে ফেলেছেন। 

শুক্রবার সিলেটে এক অনুষ্ঠানের পর বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থা নিয়ে কথা বলেন আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হয়ে যাবে, একটি পক্ষ থেকে এমন প্যানিক ছড়ানো হচ্ছে। বাস্তবে এর কোনো ভিত্তি নেই। বৈশ্বিক মন্দায় অন্যান্য দেশের তুলনায় আমরা বেহেশতে আছি।’ এই বক্তব্য প্রচারের পর থেকেই মূলত ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

রবিবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বাংলাদেশ সফররত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাশেলেটের সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ওই বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ‘বেহেশত’ প্রসঙ্গে কথা বলেন তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি তো ট্রু সেন্সে বেহেশত বলিনি। কথার কথা। কিন্তু আপনারা সবাই আমারে খায়া ফেললেন।’

আব্দুল মোমেন বলেন, ‘আমরা অনেকের চেয়ে ভালো আছি। বলতে পারেন বেহেশতে আছি। আর যায় কোথায়! সবাই আমারে এক্কেরে…। এই হলো বাংলাদেশের মিডিয়ার স্বাধীনতা খর্ব।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি কি মিডিয়ার স্বাধীনতা খর্ব করেছি? আফটার অল আই অ্যাম আ পাবলিক ফিগার। নিশ্চয়ই আপনারা আমাকে ক্রিটিসাইজ করতে পারেন। আই ডোন্ট মাইন্ড। তবে আগামীতে সাবধান হইতে হবে। আমি খোলামেলা মানুষ। আমি শিক্ষক মানুষ। আমি যেটা মনে করি, সেটা খোলামেলা বলে ফেলি। আমার দল থেকে আমাকে ইয়ো করেছেন। পজিশনে থেকে ভালো কথা বলা দরকার।’

রাশিয়া ও চীনের সাথে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র: হেনরি কিসিঞ্জার

যেকোনো সময় দুই বৈশ্বিক পরাশক্তি রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার। তার শঙ্কা, শুরু রাশিয়া নয়, বেইজিংয়ের সঙ্গেও ওয়াশিংটনের যুদ্ধ বাঁধতে পারে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব মন্তব্য করেন হেনরি কিসিঞ্জার। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দুরদর্শী নেতার অভাবে যুদ্ধের আশঙ্কা তীব্রতর হয়েছে।

সাবেক এই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা রাশিয়া এবং চীনের সাথে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে রয়েছি। কীভাবে শেষ হতে হবে বা  কী হতে চলেছে সে সম্পর্কে কোনো ধারণা ছাড়াই এই সমস্যাগুলো আমরাই আংশিকভাবে তৈরি করেছি।

তিনি আরও বলেন, ‘আপনি এখন বলতে পারবেন না যে আমরা তাদের (রাশিয়া-চীন) আলাদা করতে পারব। আপনি যা করতে পারেন তা হলো, উত্তেজনা না বাড়িয়ে বিকল্প পথ খোঁজা।’

এর আগে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের এক সম্মেলনে কিসিঞ্জার বলেছিলেন, ইউক্রেনের অধিকাংশ মানুষই চার মাসে প্রবেশ করা এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান করছে।

এ সময় কিসিঞ্জার ইউক্রেনে রাশিয়ার জন্য বিব্রতকর পরাজয় না চাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এতে ইউরোপের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার অবনতি ঘটাতে পারে।

তিনি আরও বলেছিলেন, পশ্চিমা দেশগুলোর ইউরোপের প্রতি রাশিয়ার গুরুত্বের কথা মনে রাখা উচিত এবং ‘মুহুর্তের মোহে’ ভেসে যাওয়া উচিত নয়।  এ সময় রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ‘পূর্বতন স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস ক্যু)’ আগের অবস্থায় ফিরে যেতে আলোচনায় বসার জন্য ইউক্রেনকে চাপ দিতে পশ্চিমাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন কিসিঞ্জার।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন হেনরি কিসিঞ্জার। কূটনৈতিক এবং পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে তার মেধা ছিলো অনন্য। এমনকি বর্তমান মার্কিন রাজনীতির অনেক মৌলিক নীতিও কিসিঞ্জারেরই গড়ে দেয়া বলে বলে বিশ্বাস করেন বিশ্লেষকরা।

বুয়েটের আন্দোলনকারীরা বেয়াদব ও শিবির: ছাত্রলীগ সভাপতি

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) সাবেক ছাত্রলীগের ব্যানারে আলোচনা ও দোয়া আয়োজনের প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীদের ‘বেয়াদব’ এবং ‘শিবির’ বলে আখ্যা দিয়েছেন ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়। বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি পুনরায় চালু করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (১৪ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনার দাবিতে ঢাবি ছাত্রলীগ আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই দাবি জানান।

শনিবারের (১৩ আগস্ট) বিক্ষোভকারীদের জামায়াত-শিবির আখ্যা দিয়ে জয় বলেন, ‘দেশের জন্য বুয়েটের সাবেক নেতারা কাজ করেছেন। কিন্তু জামায়াত-শিবিরের প্রেতাত্মারা নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাইদের সাথে কী বেয়াদবিটা করল দেখেছেন! এ ধরনের বেয়াদবদের থেকে ভালো কিছু বয়ে আসবে কখনও তা আমি মনে করি না। জাতির পিতা এই বাংলাদেশ সৃষ্টি করেছেন, তাকে নিয়ে যারা ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটাবে তাদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে।’

আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, ‘বুয়েট প্রশাসনকে আবারো বিবেচনা করতে বলব, ছাত্ররাজনীতি আবারো সচল করে বুয়েটকে জঙ্গিমুক্ত করার জন্য আপনারা পদক্ষেপ নেবেন। আপনাদের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ তরুণ প্রজন্মের আলোকবর্তিকা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এই অনুরোধ করছে।’

জয় বলেন, ‘ওই বুয়েট ক্যাম্পাসে পাকিস্তানের প্রেতাত্মা যারা মাথাছাড়া দিচ্ছে তাদের চিহ্নিত করা হবে। তাদের পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড খতিয়ে দেখা হবে। প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার কাছে অনুরোধ করব, যারা যারা বঙ্গবন্ধুর শোকের প্রোগ্রাম বানচালে প্রচেষ্টা হাতে নিয়েছে তাদের আপনারা খুঁজে বের করুন, তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদোহ মামলা করা উচিত। তারা রাষ্ট্রদোহ এবং সংবিধান মতো একটা কাজ করেছে।’

এসময় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস এবং সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। তারা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের রায় কার্যকরের দাবি জানান এবং যতদিন পর্যন্ত এই রায় কার্যকর হবে না ততদিন পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।

এর আগে গতকাল (শনিবার) জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বুয়েট ক্যাফেটেরিয়ায় ছাত্রলীগের ব্যানারে আলোচনা সভা ও দোয়ার আয়োজন করেন বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা। আবরার ফাহাদ হত্যার পর বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ। সেই সূত্র ধরে ছাত্রলীগের এই কর্মসূচির প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিক্ষোভ করেছে বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

প্রধানমন্ত্রী নিরাপত্তা ঝুঁকিতে: ডিএমপি কমিশনার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই জাতীয় শোক দিবসে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যে একাধিকবার হামলা হয়েছে, সেজন্য তার নিরাপত্তার ঝুঁকি থেকেই যায়। তাই ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে আসার সময় ব্যাগ কিংবা বাক্স নিয়ে না আসার অনুরোধ জানাচ্ছি।

রোববার (১৪ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শেষে তিনি এ অনুরোধ জানান।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সবধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার কথা উল্লেখ করে শফিকুল ইসলাম বলন, নৌ-টহলও অবস্থান করবে। সোয়াটসহ গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন নিয়োজিত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধাশেষে দর্শনার্থীদের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য ধানমন্ডি-৩২ নম্বর খুলে দেওয়া হবে বলেও জানান ডিএমপি কমিশনার।

এ সময় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কলেজছাত্রকে বিয়ে করা সেই শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

নাটোরের গুরুদাসপুরে মো. মামুন হোসেন (২২) নামে এক ছাত্রকে বিয়ে করা সেই শিক্ষিকা খাইরুন নাহারের (৪০) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার (১৪ আগস্ট) সকালে নাটোর শহরের বলারিপাড়া এলাকায় এক ভাড়া বাসাতে তার মরদেহটি পাওয়া যায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাটোর সদর থানার কর্মকর্তা (ওসি) নাসিম আহমেদ।

শিক্ষিকা মোছা. খাইরুন নাহার গুরুদাসপুর উপজেলার চাঁচকৈড় পৌর এলাকার মো. খয়ের উদ্দিনের মেয়ে এবং উপজেলার খুবজীপুর এম হক ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন।

গত ৩১ জুলাই তাদের বিয়ের বিষয়টি জানাজানি হলে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় বিয়ের খবরটি ভাইরাল হয়। এতে সারা বাংলাদেশে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়।

ওসি নাসিম আহমেদ ঢাকা মেইলকে জানান, মরদেহ উদ্ধারের জন্য পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বিস্তারিত জানা যাবে।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর কাজী অফিসে গিয়ে দুজন গোপনে বিয়ে করেন। বিয়ের ছয় মাসের বেশি সময় পার হওয়ার পর সম্প্রতি বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়। খাইরুন নাহার গুরুদাসপুর খুবজিপুর এম হক ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক এবং মামুন নাটোর এন এস সরকারি কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

‘দুনিয়া কাফেরের জন্য বেহেশত, মুমিনের জেলখানা’

0

জান্নাত মুমিনের চিরস্থায়ী নিবাস। দুনিয়ার প্রেমে না মজে জান্নাতের দিকে অগ্রসর হতে হয় একজন মুমিনকে। অপরদিকে কাফের মুশরিকরা পরকালের পরিবর্তে দুনিয়ার সুখ-শান্তিকেই বেছে নিয়েছে। বিশ্বনবী (স.) ইরশাদ করেছেন— الدنيا سجن المؤمن وجنة الكافر ‘দুনিয়া মুমিনের জন্য জেলখানা এবং কাফেরের জন্য জান্নাত।’ (মেশকাত: ৪৯৩১)

দুনিয়ায় আল্লাহ তাআলা কাফের-মুশরিকদের প্রচুর ধন সম্পদ দিয়েছেন, নেতৃত্ব-কর্তৃত্ব দিয়েছেন। মুমিনরা এসব দেখে বিভ্রান্ত হতে পারেন না। কেননা তাদের ধন-সম্পদ, নেতৃত্ব, খ্যাতি সব দুনিয়ার জীবন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। পরকালে তাদের জন্য কিছুই থাকবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এরা এমন লোক যাদের জন্য আখেরাতে আগুন ছাড়া অন্য কিছুই নেই এবং তারা যা করেছিল আখিরাতে তা নিস্ফল হবে। আর তারা যা করত তা ছিল নিরর্থক।’ (সূরা হুদ: ১৬)

দুনিয়ার সুখ শান্তিকে সেদিন অবিশ্বাসীদের কাছে খুব তুচ্ছ মনে হবে। পক্ষান্তরে মুমিনদের কাছে মনে হবে দুনিয়াতে তারা কোনো কষ্টই ভোগ করেননি। সে প্রসঙ্গটি হাদিসে উদ্বৃত হয়েছে এভাবে-

কেয়ামতের দিন অবিশ্বাসীদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তিকে হাজির করা হবে, যে ব্যক্তি দুনিয়ায় আরাম-আয়েশে দিন কাটিয়েছে। বলা হবে, তোমরা (ফেরেশতারা) একে জাহান্নাম থেকে একবার ডুবিয়ে আনো। অতএব, তাকে জাহান্নামে একবার ডুবিয়ে আনা হবে। অতঃপর তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, হে অমুক! তুমি কি কখনো সুখের ছোঁয়া পেয়েছ? সে বলবে, না, আমি কখনো সুখের ছোঁয়া পাইনি। অতঃপর ঈমানদারদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তিকে হাজির করা হবে, যে ব্যক্তি দুনিয়ায় দুঃখ-কষ্ট ও বিপদাপদে জীবন কাটিয়েছে। বলা হবে, একে একটু জান্নাত দেখাও। অতঃপর তাকে জান্নাত দেখানো হবে। এরপর তাকে বলা হবে, হে অমুক! তোমাকে কি কখনো দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করেছে? সে বলবে, আমি কখনো দুঃখ-কষ্টে পতিত হইনি।’ (ইবনে মাজাহ: ৪৩২১)

ক্ষণস্থায়ী দুনিয়াকে প্রাধান্য দিয়ে যারা পৃথিবীতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, ঔদ্ধত্য প্রকাশ করছে, সীমালঙ্ঘন করছে তারা উপলব্ধি করছে না মহান আল্লাহ ছাড় দেন, কিন্তু ছেড়ে দেন না। আমাদের অনেকের মনেও প্রশ্ন আসে, শিরক কুফরের কারণে অবিশ্বাসীদের ধ্বংস করা হয় না কেন? আসলে আল্লাহ তাআলার নীতি হলো তিনি অবকাশ দেন। কাউকে দীনের পথে ফিরে আসার অবকাশ দিলেও আবার কাউকে গুনাহ বেশি হওয়ার জন্যও অবকাশ দিয়ে থাকেন। সে বিষয়টি পবিত্র কোরআনে এসেছে এভাবে- ‘কাফিররা যেন কিছুতেই মনে না করে যে আমি অবকাশ দিই তাদের মঙ্গলের জন্য; আমি তাদের অবকাশ দিই যাতে তাদের পাপ বৃদ্ধি পায়। তাদের জন্য লাঞ্ছনাকর শাস্তি রয়েছে।’ (সুরা আলে ইমরান: ১৭৮)

তাই আমাদের আসল চিন্তা আখেরাতমুখি হওয়া উচিত। সবর করতে হবে। মিথ্যা, দুর্নীতি, হারাম খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কারো অধিকার খর্ব করা যাবে না। দীনের পথে অবিচল থাকতে হবে। ধন সম্পদ ও আরাম আয়েশের জন্য লালায়িত না হয়ে কোরআন সুন্নাহভিত্তিক জীবন যাপন করতে হবে। মনে রাখতে হবে, দুনিয়ার ধন সম্পদ এবং সন্তানাদি আল্লাহর পক্ষ থেকে পরিক্ষাস্বরূপ। আল্লাহ তাআলা এ সম্পর্কে সতর্ক করে বলেন—

‘এবং তোমরা জেনে রাখো, তোমাদের সম্পদ এবং তোমাদের সন্তান শুধু এক পরিক্ষা এবং নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট রয়েছে মহাপুরুস্কার।’ (সুরা আনফাল: ২৮)

এ কারণে রাসুল (সা.) তাঁর উম্মতদের সর্বদা দুনিয়ার মোহ ত্যাগ করে দুনিয়ায় সাদাসিধে জীবন যাপনের শিক্ষা দিয়েছেন। আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন রাসুলুল্লাহ (স.) আমার কাঁধে হাত রাখলেন এবং বললেন, তুমি দুনিয়ায় এমনভাবে থাকো যেন তুমি একজন মুসাফির অথবা বিদেশি। ইবনে উমর (রা.) বলতেন, ‘যখন সন্ধ্যায় উপনীত হবে তখন তোমরা সকালের অপেক্ষা করো না। আর যখন সকাল হয় তখন সন্ধ্যার জন্য অপেক্ষা করো না। অসুস্থ হওয়ার আগে সুস্থতাকে কাজে লাগাও, আর তোমাদের মৃত্যুর জন্য জীবিতাবস্থায় পাথেয় জোগাড় করে নাও।’ (সহিহ বুখারি: ৬৪১৬)

শেষ কথা হচ্ছে ‘পার্থিব জীবন ধোঁকা ছাড়া অন্য কিছুই নয়’ (সূরা আলে ইমরান: ১৮৬)। আল্লাহ তাআলা সবাইকে বোঝার তাওফিক দান করুন। আমিন।

কথাবার্তা, আচার আচরণে প্রত্যেককে দায়িত্বশীল হতে হবে:কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আহ্বান জানিয়েছেন সংকটে নেতাকর্মী ও দায়িত্বশীলদের কথাবার্তায় সতর্ক হওয়ার জন্য। তিনি বলেন, প্রত্যেককে কথাবার্তায়, আচার আচরণে দায়িত্বশীল হতে হবে।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শনিবার মহিলা শ্রমিক লীগ আয়োজিত শোক দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

এ আলোচনা সভায় মহিলা শ্রমিক লীগের সভাপতি সুরাইয়া আক্তারের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, মহিলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী রহিমা আক্তার সাথী, কার্যকরী সভাপতি সামসুন্নাহার।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের নেতাকর্মীদের আমি বলব, প্রত্যেককে কথাবার্তায়, আচার আচরণে দায়িত্বশীল হতে হবে। এই সময়ে দায়ীত্বজ্ঞানহীন কোনো কথা বলা সমীচীন নয়, এ সময় ক্ষমতার দাপট দেখানো সমীচীন নয়। ঠান্ডা মাথায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। মানুষের জন্য কাজ করতে হবে, এটাই আজকে আমাদের সবচেয়ে বড় মেসেজ।

সারা বিশ্ব সংকটে, একটা নেতিবাচক প্রভাব আজকে বাংলাদেশ মোকাবিলা করছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা জানি অনেক মানুষের কষ্ট হচ্ছে। কস্ট অব লিভিং যেভাবে বেড়ে গেছে, মানুষ কষ্ট করছে এটা ঠিক। কিন্তু আমাদের সামনে কোনো উপায় ছিল না।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, আজকে রাইন নদী শুকিয়ে যাচ্ছে, সেখানে জাহাজ চলতে পারছে না। ইতালির ১৫ লেকের অধিকাংশ শুকিয়ে গেছে। ফ্রান্সের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে এখনও আগুন জলছে। আমেরিকায় মূল্য বৃদ্ধি, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, আমাদের প্রতিবেশী দেশ, শ্রীলংকা, পাকিস্তান কেউ তো আজ আরামে নেই।

তিনি জানান, বাংলাদেশের জনগণের কষ্ট হচ্ছে। সরকারে চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই। শেখ হাসিনার  ঘুম নেই, আন্তরিকভাবে তিনি আপনাদের এই সংকট উত্তোরণের জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে বিএনপি সরকার পতনের ষড়যন্ত্র করছে।
পৃথিবীর বহু দেশ আজকে সমস্যায় জর্জরিত। আর এটাকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সের বিরোধী দল সরকার উৎখাতে নামেনি, আমেরিকার বিরোধী দল সরকার উৎখাতে নামেনি, যুক্তরাজ্যের বিরোধী দল সরকার উৎখাতে নামেনি, জার্মানির বিরোধী দল সরকার উৎখাতের চেষ্টা করেনি, জাপানের বিরোধীদল প্রোটেস্ট করেনি, বিক্ষোভ মিছিল করেনি। আমাদের প্রশ্ন সেখানে, সহযোগিতা চেয়েছিলাম আমরা। এই দুনিয়ায় সংকটে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, আর বাংলাদেশে তারা সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করছে।আওয়ামী লীগ সরকার কোনো বিদেশি শক্তির কাছে মাথা নত করে না।

নিজেরা (বিএনপি) ইচ্ছেমতো মিছিল করছে জানিয়ে তিনি বলেন, পল্টন প্রেসক্লাবের সামনে। এতদিন বলতো আওয়ামী লীগ আমাদের মিছিল মিটিং করতে দিচ্ছে না, এখন নেত্রী বলেছেন ওরা করুক। যখন মিছিল মিটিং করতে পারছে তাদের সাহসের ডানা বিস্তারিত হচ্ছে। এখন তারা বলে বিদেশি শক্তির চাপে পুলিশ বাধা দিচ্ছে না। তাহলে এখন শিকার করলেন? যে পুলিশ বাধা দিচ্ছে না। বিদেশি শক্তির চাপে মাথা নত করার মতো ব্যক্তি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা নন। মনে রাখবেন কোনো শক্তির কাছে আমরা মাথা নত করি না। শেখ হাসিনা আপন শক্তিতে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে বলিয়ান। আমাদের সমস্যা আমাদের সংকট আমাদেরকে সমাধান করতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব বেপরোয়া চালকের মতো আচরণ করছেন মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির মহাসচিব বলতে বলতে আজকে বেপরোয়া ড্রাইভার হয়ে গেছেন, বেপরোয়া ড্রাইভার এখন কখন যে কোথায় এক্সিডেন্ট ঘটায়! আগুন নিয়ে আসবেন না, বলে দিচ্ছি, সতর্ক করে দিচ্ছি। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে আপনাদের কেউ বাধা দিচ্ছে না। কিন্তু আগুন সন্ত্রাস নিয়ে যদি নামতে চান, মোকাবিলা করতে চান, তাহলে বলব.. জনতার প্রতিরোধ সুনামিতে পরিণত হবে এবং সমুচিত জবাব দেওয়া হবে।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পেছনের শক্তি এখনও অজানা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন,  বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পেছনের বিশ্বাসঘাতক যে রাজনৈতিক শক্তি, সবার নাম আমরা জানি না। সবার ভূমিকা এখনও পরিষ্কার নয়। তাই খুনিরা যখন বঙ্গবন্ধুর বাড়ি আক্রমণ করে তখন অনেককেই তিনি টেলিফোন করেছিলেন। তার ডাকে ছুটে এসেছিলেন শুধু একজন, তিনি হলে নিরাপত্তা প্রধান কর্নেল জামিল। এই কর্নেল জামিলকেও সুবহানবাগ মসজিদের পাশে হত্যা করা হয়।

সংবাদ সংগ্রহ শেষে ফেরা পথে সাংবাদিককে কোপালো দুর্বৃত্তরা; ডান হাত প্রায় বিচ্ছিন্ন

অতর্কিত হামলায় গুরুতর আহত একটি দৈনিক পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে সংবাদ সংগ্রহ শেষে মোটরসাইকেলে উপজেলা সদরে ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন ‘দৈনিক নতুন দিন’র সেই জেলা প্রতিনিধি আব্দুল বাছিত খান। দায়ের কোপে তার ডান হাত প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।

সিলেটে চলমান চা শ্রমিকদের আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহ শেষে বাছিত হামলার শিকার হন।  হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সাংবাদিক বাছিতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর কোপের দাগ রয়েছে।

শনিবার(১৩ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে  কমলগঞ্জ-মুন্সিবাজার সড়কের উবাহাটা (মান্দারীবন) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলার পর বাছিতের প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় আশঙ্কাজনকভাবে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ঘটনার সময় আহত সাংবাদিকের সঙ্গে থাকা আমিনুল ইসলাম জানান, হামলার শিকার আব্দুল বাছিত তাকে নিয়ে রহিমপুরের মৃর্তীঙ্গা চা বাগান থেকে চলমান চা শ্রমিকদের আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহ শেষে মোটরসাইকেলে কমলগঞ্জ উপজেলা সদরে আসছিলেন। তারা কমলগঞ্জ-মুন্সীবাজার সড়কের উবাহাটা (মান্দারীবন) এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা তিন ব্যক্তি গতিরোধ করে। তারা দা দিয়ে আব্দুল বাছিতকে অতর্কিতে কোপাতে থাকে। তিনি দৌড়ে পালাতে চাইলেও সন্ত্রাসীদের কোপের আঘাতে মাটিতে পড়ে যান।

তিনি বলেন, স্থানীয়দের সহযোগিতায় তিনি সাংবাদিক বাছিতকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
হামলার কথা জানতে পেয়ে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা তাকে চিকিৎসকের পরামর্শে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইয়ারদৌস হাসান একটি গণমাধ্যমকে বলেন, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সার্কেল) শহিদুল ইসলাম মুন্সী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
কী কারণে ও কারা হামলা চালিয়েছে তা প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি। তবে সরেজমিন বেশ কিছু তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে। খুব দ্রুত এ হামলার রহস্য বের হবে।