Home Blog Page 50

আগামীতে দেশকে নেতৃত্ব দিতে তরুণদের তৈরি হতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

0

নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও গবেষণা লব্দ জ্ঞানে সমৃদ্ধ হয়ে আগামীতে নেতৃত্ব দানে প্রস্তুত হওয়ার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সোনার ছেলে-মেয়েরা তোমরা তৈরি হও আগামীতে দেশকে নেতৃত্ব দিতে। সর্বক্ষেত্রেই তোমরা তোমাদের মেধার বিকাশ ঘটাবে এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেেব। যেন বাংলাদেশ আর পিছিয়ে না থাকে, বাংলাদেশ এগিয়ে যায় এবং উদ্ভাবনী শক্তিতে আমাদের ছেলে-মেয়েরা আরো উন্নত হয়।

রবিবার (২৬ জুন) সকালে ‘বঙ্গবন্ধু সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা -২০২২’ এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

রাজধানীর সেগুন বাগিচার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনষ্টিটিউট মিলনায়তনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

শেখ হাসিনা বলেন, আজকের শিশুরা ভবিষ্যতে এদেশের কর্ণধার হবে। তারাই তো আমার মত প্রধানমন্ত্রী হবে, মন্ত্রী, হবে শিক্ষক, বড় বড় কর্মকর্তা হবে এবং প্রশাসন, সংবাদিকতাসহ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত থেকে দেশের উন্নতি করবে। কাজেই, সেইভাবে তারা তৈরি হোক।

তিনি বলেন, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে তোমাদের চলতে হবে এবং প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের যে বিকাশ ঘটছে তারসঙ্গে তাল মিলিয়েই এগিয়ে যেতে হবে।

সরকারপ্রধান এ সময় কৃষি, বিজ্ঞান, স্বাস্থ্য খাত সহ বিভিন্ন খাতে গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, গবেষণাই পারে এক্ষেত্রে পথ দেখাতে। আর আগামীর বাংলাদেশকে আজকের মোধাবীরাই এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

এ সময় তিনি বিশেষ চাহিদা সম্পন্নদেরকেও এই মেধা অন্বেষণে যুক্ত করায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, কেননা, এদের মধ্যেও বিশেষ প্রতিভা লুকিয়ে রয়েছে এবং এরাও আমাদের সন্তান এবং আপনজন সেই বিবেচনায় এদেরকেও মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে হবে। কাজেই, নতুন প্রজন্মকে আমি বলব, সকলকে নিয়ে চল। তবেই আমরা সাফল্য অর্জন করতে পারবে, বলেন তিনি।

পুরস্কার বিজয়ী সকলকে অভিনন্দন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তোমাদের যে সুপ্ত মেধা সেটাই আমাদের ভবিষ্যত।’

বঙ্গবন্ধু সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ নীতিমালা-২০১২ প্রণয়ণের মাধ্যমে ২০১৩ সাল থেকে মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হচ্ছে। কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে ২০২০ ও ২০২১ সালে প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে প্রতিযোগিতাটির নামকরণ করা হয় ‘বঙ্গবন্ধু সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা’।

দেশে সকল সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের তিনটি গ্রুপে (ষষ্ঠ-অষ্টম, নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশ) বিভক্ত করে অনুষ্ঠিত হয় এই প্রতিযোগিতা।

অনুষ্ঠানে ভাষা-সাহিত্য, দৈনন্দিন বিজ্ঞান, গণিত ও কম্পিউটার, বাংলাদেশ স্টাডিজ এবং বাংলাদেশ স্টাডিজ ও মুক্তিযুদ্ধ (শুধুমাত্র বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য)সহ মোট পাঁচটি বিষয়ে তিনটি গ্রুপে দেশের ১৫ জন মেধাবীকে বঙ্গবন্ধু সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ পুরস্কার দেওয়া হয়।

এ বছর এপ্রিল-মে মাসে প্রতিষ্ঠান, উপজেলা, জেলা, বিভাগ এবং জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। বিভাগীয় পর্যায়ে সেরা মোট ১৩২ জন থেকে বিচারকদের মূল্যায়নে ১৫ জন এবছরের সেরা মেধাবী নির্বাচন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দিপু মনি বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। পুরস্কার হিসেবে প্রত্যককে ২ লাখ টাকার চেক, ক্রেস্ট,মেডেল ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।

শিক্ষামন্ত্রী ডা.দিপু মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অথিথি হিসেবে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. কামাল হোসেন বক্তৃতা করেন। এ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবু বকর সিদ্দিক।

পুরস্কার বিজয়ীদের পক্ষে রাজশাহী কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী মিফতাহুল জান্নাত এবং রাজবাড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর ছাত্র জুলকারনাইন নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তৃতা করেন। এ অনুষ্ঠানে এই প্রতিযোগিতার ওপর একটি ভিডিও ডকুমেন্টারিও প্রদর্শিত হয়।

‘প্রধানমন্ত্রী বড় বড় কাজ করেই ফেলেছেন, এখন মানুষের দিকে নজর দিন’

স্বপ্নের পদ্মাসেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, আজকে জাতির এই সাহসী উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। প্রধানমন্ত্রী বড় বড় কাজ করেই ফেলেছেন। এখন মানুষের দিকে নজর দিতে হবে। একত্রে মিলে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখি।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে জাতিকে পদ্মা সেতু উপহার দিয়েছেন। জাতি এতে গৌরবান্বিত। প্রধানমন্ত্রী প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছেন, যেমনটি তার বাবা প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছিলেন ৭ মার্চে।

আজ শনিবার(২৫ জুন) পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষ্যে মাওয়া প্রান্তে আয়োজিত সুধী-সমাবেশে অংশ নেওয়ার সময় জাফরুল্লাহ চৌধুরী সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, সবাই বলেছিল– এই সেতুর নাম হাসিনা সেতু করতে। উনি করেননি। পদ্মা সেতু নাম রেখেছেন। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেছেন।

পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকতে পারাটা অত্যন্ত আনন্দঘন অনুভূতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, একাত্তরেও মুক্তিযুদ্ধ করতে পেরেছি। আজকে পদ্মা সেতু নিজের চোখে দেখতে পেরেছি। এটির মাধ্যমে আমার জীবনের বড় একটি আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়ে গেছে।

‘আমি জাতির উল্লেখযোগ্য ঘটনারগুলোর মধ্যে একটাতে অনুপস্থিত ছিলাম, সেটি ৭ মার্চের ভাষণ। এ ছাড়া জাতির সব গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় আমি ছিলাম’, যোগ করেন ডা. জাফরুল্লাহ। 

বাংলাদেশের এক গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহাসিক দিন পদ্মা সেতুর উদ্বোধন: প্রধানমন্ত্রী

0

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশপ্রেমিক জনগণের আস্থা ও সমর্থনের ফলেই আজকে উন্নয়নের এ নতুন অধ্যায় উন্মোচিত হয়েছে। প্রমত্তা পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত দেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো বহুল প্রতীক্ষিত স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের দিনকে বাংলাদেশের জন্য এক গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহাসিক দিন।

আগামীকাল (২৫ জুন) পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে শুক্রবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনেও গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্ন পূরণে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাব। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ক্ষুধা দারিদ্র্যমুক্ত ও উন্নত-সমৃদ্ধ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন লালিত স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব, ইনশাআল্লাহ।

এ বাণীতে প্রমত্তা পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত দেশের সর্ববৃহৎ পদ্মা সেতু যান চলাচলের জন্য আগামীকাল খুলে দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী চ্যালেঞ্জিং ‘পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্প’ বাস্তবায়নে নিয়োজিত সর্বস্তরের দেশি-বিদেশি প্রকৌশলী, পরামর্শক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, নিরাপত্তা তদারকিতে নিয়োজিত সেনাবাহিনী ও নির্মাণ শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে তাদের অবদান ও অক্লান্ত পরিশ্রমের জন্য অভিবাদন জানান।

সেতুর দুই প্রান্তের জনগণ জমি প্রদানের মাধ্যমে এবং নানাভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তা করায় তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং পদ্মা সেতু উদ্বোধনের এ মাহেন্দ্রক্ষণে দেশবাসীকে তিনি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বব্যাংক পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ এনে মামলা করে। কানাডা আদালত বিশ্বব্যাংকের উত্থাপিত সব অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে রায় দেয়। সব দুর্নীতির অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়। আমরা বিশ্বব্যাংকের ঋণ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণের ঘোষণা দিলে জনগণের কাছ থেকে বিপুল সমর্থন পাই। জনতার শক্তি হৃদয়ে ধারণ করে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে আজ আমরা স্বপ্নের পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছি।

দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, দুর্নীতিমুক্ত বীরের জাতি হিসেবে বাঙালি নিজেদের বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে বজ্রকণ্ঠে উচ্চারিত- ‘সাত কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না’- এই চিরপ্রেরণার বাণীতে উজ্জীবিত হয়ে আমরা প্রমাণ করেছি আমাদের নিজস্ব সক্ষমতা।

পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার নিরবচ্ছিন্ন, সাশ্রয়ী ও দ্রুত যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হল উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিপুল সম্ভাবনাময় এই অঞ্চলের বহুমুখী উন্নয়নে এই সেতুর গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে শিল্পায়ন ও পর্যটন শিল্পে অগ্রসর এ অঞ্চলের উন্নয়নে নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। টুঙ্গীপাড়া জাতির পিতার সমাধিসৌধ, সুন্দরবন এবং কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতসহ নানা প্রত্নতাত্ত্বিক ও দর্শনীয় স্থানগুলোতে পর্যটকের আগমন বৃদ্ধি পাবে। নদী বিধৌত উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি ও মৎস্য সম্পদ আহরণ এবং দেশব্যাপী দ্রুত বাজারজাতকরণে পদ্মা সেতু বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইতোমধ্যে এ অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত পায়রা সমুদ্রবন্দর, বৃহৎ নদীগুলোর ওপর নির্মিত সেতু, রামপাল ও পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ মংলা সমুদ্রবন্দরের পূর্ণ ক্ষমতা ব্যবহারে পদ্মা সেতু যোগাযোগ ব্যবস্থায় সূতিকাগার হিসেবে কাজ করবে।

তিনি আরও বলেন, এই অঞ্চলে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ বেনাপোল, ভোমরা, দর্শনা প্রভৃতি স্থলবন্দরের মাধ্যমে আন্তঃদেশীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে। এ সেতুর মাধ্যমে দুই প্রান্তে বিদ্যুৎ, গ্যাস, অপটিক্যাল ফাইবারসহ পরিষেবাগুলোর সংযোগ স্থাপিত হবে। পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে সার্বিকভাবে দেশের উৎপাদন ১.২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে এবং প্রতিবছর ০.৮৪ শতাংশ হারে দারিদ্র্য নিরসনের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এ সেতু অনন্য অবদান রাখবে।

সরকারের ত্রাণ পৌঁছাচ্ছে না, এই সরকার বন্যার কারণ অনুসন্ধান করেনি:ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বন্যাকবলিত এলাকায় সরকারের ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছাচ্ছে না। যে  কারণে বন্যা হয় সেই কারণ বা সমস্যা সমাধানে কোনো ব্যবস্থা সরকার গ্রহণ করেনি। বরঞ্চ এটাকে বাড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

শুক্রবার(২৪ জুন) সকালে রাজধানীর খিলগাঁওয়ে ঢাকা সিটি করপোরেশনের ‘গুম’ হওয়া কাউন্সিলর চৌধুরী আলমের বাসায় তার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাত শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা জানান।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনারা দেখেছেন যে, দেশে একটা ভয়াবহ বন্যা চলছে সিলেট, সুনামগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চলে। আমি নিজে গতকাল (বৃহস্পতিবার) সিলেটে গিয়েছিলাম। নিজের চোখে না দেখলে এর ভয়াবহতা সস্পর্কে কোনো ধারণা করা যায় না। মানুষ যে কষ্টে আছে এবং তাদের কাছে যে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া, তাদের বাঁচার ব্যবস্থা করে দেওয়া, তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে দেওয়া- তার কোনো ব্যবস্থা সরকার করে নাই।

অথচ এই তথাকথিত অনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তিনি হেলিকপ্টারে গিয়ে ওপর দিয়ে ঘুরলেন উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ঘুরে তিনি সার্কিট হাউসের হেলিপ্যাডে নেমেছেন। সেখানে ১০জন লোককে টোকেন ত্রাণ দিয়েছেন এবং তারপরে তিনি বলেছেন, সব হয়ে যাবে। গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাত পর্যন্ত আমি যা খবর পেয়েছি এগুলো একেবারে কিছুই হয়নি।

সেনাবাহিনীর কাজ নিয়ে কিছুটা আশাবাদ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সেনাবাহিনী নামার পরে তারা সিস্টেমেটিক্যালি কিছু ত্রাণ রিমোট অঞ্চলগুলোতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। এ ছাড়া কিছু কাজ করছে বেসরকারি এনজিওগুলো।’

বিএনপি নেতাকর্মী ত্রাণ নিয়ে জনগণের পাশে আছে এমনই প্রসঙ্গ তুলে ফখরুল বলেন, আমাদের দলের নেতাকর্মীরা সবচেয়ে বেশি কাজ করছে। তারা নিজেদের পয়সা দিয়ে নৌকা ভাড়া করে ত্রাণ নিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে এবং ব্যাপক হারে কাজ করছে তারা।আমি আপনাদের মাধ্যমে সিলেটের নেতাদেরকে ধন্যবাদ জানাতে চাই।একইসঙ্গে আমি অবিলম্বে বন্যাকবলিত অঞ্চলগুলোকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করার দাবি জানাচ্ছি।

বন্যার কারণ হিসেবে মির্জা ফখরুল বলেন, হাওড়ে যে বড় রাস্তা হয়েছে, যেটা কিশোরগঞ্জের ইটনায় গিয়েছে। আমরা শুনেছি সেটা আমাদের রাষ্ট্রপতি মহোদয়ের একটা প্রাইজ প্রজেক্ট। ৩৩ কিলোমিটার এই রাস্তা। এই রাস্তায় সম্পূর্ণ পানির যে স্বাভাবিক প্রবাহ যেটাকে বন্ধ করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, আজকে যে পানি উজান থেকে নেমে আসে সেই পানি আপনার সিলেট-সুনামগঞ্জের হাওড় দিয়ে বেরিয়ে গিয়ে কিশোরগঞ্জ-নেত্রকোনার হাওড় দিয়ে মেঘনাতে গিয়ে পড়ে। অথচ পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বা গতিকে আজকে বন্ধ করা হয়েছে। যার ফলে এভাবে ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের ২৪ জুন রাজধানীর ফার্মগেট এলাকা থেকে ঢাকা সিটি করপোরেশনের ২০নং ওয়ার্ডের (সাবেক ৫৬নং ওয়ার্ড) সাবেক কমিশনার চৌধুরী আলমকে মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তার নিখোঁজ হওয়ার এই দিনটিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সকাল সাড়ে ১০টায় খিলগাওয়ে চৌধুরী আলমের বাসায় যান এবং তার সহধর্মিনী হাসিনা চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিবারের সদস্যদের বর্তমান অবস্থার বিষয়ে খবরাখবর জেনে নেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চৌধুরীর আলমের দুই ছেলে আবু সাঈদ চৌধুরী, আবু সাদাত চৌধুরী, দুই মেয়ে মাহমুদা আখতার, মাহফুজা আখতার ও চৌধুরী আলমের ছোটভাই খুরশীদ আলম।

বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি আবদুস সালাম, সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু, মহানগর নেতা আবদুল  হান্নান, ফারুক আহমেদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের নজরুল ইসলাম, বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান।

বিধবার সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও, আ’লীগ নেতা ও উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে এক নারীর সাথে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুরের আপত্তিকর ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় নৈতিক স্খলনের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এর জেরে উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে তার অপসারণ চেয়ে ঝাড়ু মিছিল করেছেন নারীরা। এর নেতৃত্ব দেন সরাইল উপজেলা শ্রমিক লীগের সদস্য সচিক শেখ আবুল কালাম।

শুক্রবার (২৪ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় সরাইল উপজেলার পশ্চিম কুট্টাপাড়া এলাকায় হওয়া এই ঝাড়ু মিছিলে গ্রেফতার দুই যুবকের পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয় নারীরা অংশ নেন। এ সময় মিছিলকারীরা নৈতিক স্খলনের অভিযোগে উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে রফিক উদ্দিন ঠাকুরের অপসারণ ও তাকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। এছাড়া অবিলম্বে গ্রেফতার দুই যুবকের মুক্তিও দাবি করেন তারা।

উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে এক বয়স্ক বিধবা নারীর সঙ্গে উপজেলা চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুরের একটি আপত্তিকর ভিডিও গত সোমবার ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ৩ মিনিট ৩৪ সেকেন্ডের সেই ভিডিওতে দেখা যায়, সরাইল উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিক উদ্দিন ঠাকুর এক নারীর সঙ্গে অনৈতিক কাজে লিপ্ত রয়েছেন। চেয়ারম্যানের এই কর্মকাণ্ডে বিব্রত স্থানীয়রা। এই ঘটনায় পুরো উপজেলা জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

ফেসবুকে ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে উপজেলা চেয়ারম্যানের ছেলে সাইফুল ইসলাম ঠাকুরের দায়ের করা মামলায় বৃহস্পতিবার উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক শেখ আরফান আহমেদ ও কুট্টাপাড়া এলাকার তরিকুল ইসলাম নামে দুই যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ।

যদিও রফিক উদ্দিন ঠাকুর শুরু থেকে দাবি করেছিলেন, এই ভিডিও সর্ম্পকে তিনি কিছুই জানেন না। তাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে ভিন্ন একটি ভিডিওতে তার চেহারা জুড়ে দিয়ে এই ভিডিওটি করা হয়েছে। তবে ঘটনার ৩ দিন পর বৃহস্পতিবার তিনি দাবি করেন, সেই নারী তার বিবাহিত দ্বিতীয় স্ত্রী। এ সংক্রান্ত একটি কাবিনামাও তিনি সরাইল থানা পুলিশের কাছে উপস্থাপন করেছেন। সেখানে দেখানো হয়, পার্শ্ববর্তী আশুগঞ্জ উপজেলার আড়াইসিধা ইউনিয়নে কাজী অফিসে তাদের বিয়ে হয়েছে। যদিও তাদের নিকাহ্ রেজিস্টার কাজী মাওলানা মোবারক হোসেন ২-৩ বছর আগেই মারা গেছেন।

সরাইল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন জানান, উপজেলা চেয়ারম্যান তার দ্বিতীয় বিয়ের কাবিননামা আমাদের দিয়েছেন। গ্রেফতার আসামিরা মোবাইলে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে সংরক্ষণ, প্রচার ও সরবরাহ করায় পর্নোগ্রাফি আইনের ৮ ধারা অনুযায়ী তারা অপরাধী। তাদের মোবাইলে এসব আলামত থাকায় তা জব্দ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বোরকা পরে শ্বশুরবাড়িতে হামলা; স্ত্রীসহ নিহত ৩

শেরপুরের শ্রীবরদীতে বৃহস্পতিবার বোরকা পরা এক ব্যক্তির শ্বশুড় বাড়িতে হামলা চালালে তিন জন নিহত এবং তিন জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার কাকিলাকুড়া ইউনিয়নের খোশালপুর পুতল গ্রামের একটি বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- একই গ্রামে মনু মিয়ার মেয়ে মনিরা বেগম (৪০),  স্ত্রী শেফালী বেগম (৬০)  এবং মৃত নুর জামালের ছেলে মাহমুদ হাজী (৬৫)।

শেরপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) হাসান নাহিদ চৌধুরী জানান, স্ত্রী মনিরা বেগমের সঙ্গে বিরোধের জের ধরে বোরকা পরে মিন্টু মিয়া শ্বশুরবাড়িতে হামলা চালায়। এই সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তিন জনকে গলা কেটে এবং আরও তিন জনকে এলোপাথারী কুপিয়ে জখম করে মিন্টু মিয়া পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তিন জনকে মৃত ঘোষণা করে।

গুরুতর আহত আপর তিন জনকে বকশীগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এখনও অভিযুক্তকে আটক করতে পারেনি পুলিশ তবে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এসপি নাহিদ।

প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে এসি লাগিয়ে থাকেন যুবলীগ নেতার ছেলে

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার হিসেবে সারাদেশে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও হতদরিদ্র পরিবারগুলোর মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় গৃহনির্মাণ করা হয়। এই ঘর নিয়েই এবার অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক নেতারা দলীয় পরিচয়ে পাচ্ছেন সেইসব ঘর। সেই ঘরেই নিজের আয়েশের সামগ্রী বসিয়ে কাটাচ্ছেন রাজকীয় জীবন। পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে সাম্প্রতিক সময়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র (এসি) ঝুলতে দেখা গেছে।

স্থানীয়রা প্রথমে হতদরিদ্র হিসেবে আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর বরাদ্ধ পাওয়া ব্যক্তি কিভাবে তার বাড়িতে এসি লাগিয়েছেন এ নিয়ে প্রশ্ন তুলে পরে খোঁজ নিয়ে জানা বিস্তারিত জানতে পারে এলাকাবাসী। এ ঘরটি যুবলীগ নেতার সন্তানের দখলে রয়েছে।

এই ঘরের মালিকের নাম মো. ইকবাল সেপাই। তিনি জাতীয় পার্টির (জেপি) সহযোগী সংগঠন জাতীয় ছাত্রসমাজের পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী উপজেলার ৩ নম্বর বালিপাড়া ইউনিয়ন শাখার আহ্বায়ক। তার বাবা আলমগীর সেপাই বালিপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক।

রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা হওয়ার সুবাদে দলীয় সুপারিশে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ওই ঘরটি তিনি বরাদ্দ পেয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ঘরের মালিক ইকবাল বর্তমানে ড্রেজিং ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। প্রতি মাসে তার আয় ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা। চলাফেরা করেন প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের মোটরসাইকেলে। তার চলাফেরা কিংবা বেশভূষা দেখে অনেকেই বিভ্রান্ত হন যে তিনিই হতদরিদ্র মানুষ যে কিনা আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পেয়েছেন।

এ বিষয়ে ইকবালের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি একটি গণমাধ্যমকে বলেন, এখন আমি ব্যবসা করি। এর আগে যখন আমার সমস্যা ছিল তখন আমি ঘর পেয়েছি। আমি গরম সহ্য করতে পারি না। তাই ঘরে এসি লাগিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে আমাকে সাংবাদিকসহ অনেকে ফোন করছে। আমার টাকায় এসি লাগিয়েছি। এতে দোষের কী হলো!

জানা যায়, ইন্দুরকানী উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৫৪৪টি ঘরের কাজ শেষ হয়েছে। এসব ঘরে বাসিন্দারা বসবাস করছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেক স্বচ্ছলকে আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে অনেক অসহায় পরিবারই এখনো সেই আগেকার দীর্ণ ঘরেই মানবেতর জীবনযাপন করছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বালিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কবির হোসেন বয়াতি বলেন, মহাজোটের শরীক জাতীয় পার্টির (জেপি) স্থানীয় সংসদ সদস্যের কোটায় অনেক স্বচ্ছল ব্যক্তি রাজনৈতিকভাবে আশ্রয়ণের ঘর পেয়েছে। সেখানে এসি লাগিয়েছি কিনা জানিনা।

আশ্রয়ণের প্রকল্পে ঘর নির্মাণের দায়িত্বে থাকা উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, গৃহহীনের তালিকায় ইকবাল সেপাই আশ্রয়ণের ঘর পেয়েছে। ওই ঘরে সে পুরাতন একটি এসি লাগিয়েছে বলে লোকমুখে শুনেছি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুৎফুন্নেসা খানম বলেন, ঘর যখন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তখন আমি ছিলাম না। ইকবাল নামে এক ব্যক্তি তার আশ্রয়ণের ঘরে এসি লাগিয়েছে বলে শুনেছি। ঘর বরাদ্দে কোনো অসংগতি আছে কিনা সে বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বন্যায় ৭০ জনের প্রাণহানি, সর্বোচ্চ সিলেটে

0

পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় সারাদেশের বিভিন্ন জেলায় মৃতের সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে এ পর্যন্ত ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে এক দিনে আরও ২৮ জনের মৃত্যু কথা জানানো হয়। 

বৃহস্পতিবার(২৩ জুন) বিকেলে পাঠানো নিয়মিত বন্যাসম্পর্কিত তথ্যে কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে, দেশে বন্যায় ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম বৃহস্পতিবার থেকে বন্যার তথ্য দেওয়া শুরু করেছে। প্রথম দিনের তথ্যে বলা হয়েছিল, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগে বন্যায় ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরদিন ২২ জুন কন্ট্রোল রুম ৪২ জনের মৃত্যুর তথ্য জানায়।

আর আজ বলেছে, ১৭ জুন থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত বন্যাকবলিত এলাকায় মৃত্যু হয়েছে ৭০ জনের। অর্থাৎ এক দিনে মৃত্যু হয়েছে ২৮ জনের।

সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে, সিলেট বিভাগে। এই বিভাগে এ পর্যন্ত ৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে সুনামগঞ্জে ২৬ জন, সিলেটে ১৬ জন, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় মারা গেছে যথাক্রমে ১ ও ৩ জন।

সিলেট বিভাগের পর বন্যায় বেশি মৃত্যু হয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগে। এই বিভাগে মারা গেছে ১৮ জন। এই বিভাগের ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও জামালপুর জেলায় ৫ জন করে মারা গেছে। বাকি শেরপুর জেলায় মারা গেছে তিনজন।

রংপুর বিভাগের কয়েকটি জেলাতেও বন্যা দেখা দিয়েছে। বিভাগের কুড়িগ্রাম জেলায় ৩ জন ও লালমনিরহাট জেলায় ১ জন মারা গেছে বলে কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে।

বন্যার ফলে পানিতে ডুবেই এসব এলাকাগুলোতে বেশিরভাগ মৃত্যু হয়েছে।
এ পর্যন্ত ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে পানিতে ডুবে। আর বজ্রপাতে মারা গেছে ১৪ জন।

দেশের মানুষের কাছে নৌকার কোনো বিকল্প নেই : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, তার দল প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করে যাওয়ায় দেশের মানুষের কাছে নৌকা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, ‘তারা (দেশবাসী) জানে নৌকা আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক এবং নৌকা ছাড়া তাদের গতি নাই। কেননা, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে নিজের ভাগ্য গড়ার জন্য নয়, বরং অনেক মানুষের ভাগ্য গড়তে এবং জন্মলগ্ন থেকে সেই আদর্শ নিয়েই রাজনীতি করে যাচ্ছে।’

তিনি সকলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বিষয়ে বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে আরও বলেন, ‘নেতৃত্ব শূন্য কোন দল নির্বাচন করবে আর জনগণ ভোট দেবে কি দেখে। ঐ চোর, ঠকবাজ, এতিমের অর্থ আত্মস্যাৎকারী অথবা খুন, অস্ত্র চোরাকারবারী, সাজাপ্রাপ্ত আসামী তাদেরকে জনগণ ভোট দেবে দেশ পরিচালনার জন্য? তারাতো তা দেবে না। বাংলাদেশের মানুষ এ ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন।’

প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা আজ সকালে দলের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির ভাষণে এ কথা বলেন।

তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের সাহায্যে দলীয় কার্যালয় ২৩, বঙ্গবন্ধু এভেনিউ এর মূল অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা পদ্মা সেতু করেছি নিজেদের অর্থে অথচ এটা নিয়ে বিএনপি প্রশ্ন তোলে, যাদের আপাদমস্তক দুর্নীতিতে ভরা তারা আবার প্রশ্ন তোলে কোন মুখে? সে প্রশ্নও তিনি উত্থাপন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওরাতো কিছুই করে যেতে পারেনি। জাতির পিতা তাঁর প্রথম জাপান সফরে যে যমুনা সেতু করার উদ্যোগ নেন সেটা তাঁকে হত্যার পর ক্ষমতায় আসা জিয়াউর রহমান বন্ধ করে দেন। পরে এরশাদ ক্ষমতায় এসে আবার উদ্যোগ নেন সেতুটি করার। কিন্তু খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পর সেতুর কাজ খুব বেশি এগোতে পারেনি কারণ সবজায়গায় তাদের ছিল কমিশন খাবার অভ্যেস। মায়ের জন্য, দুই ছেলের জন্য, ফালুর জন্য-অমুক-তমুককে ভাগে ভাগে দিতে দিতে সেখানে আর কেউ কাজ করতে পারতো না। ’৯৬ সালে সরকারে এসে আওয়ামী লীগ এই যমুনা সেতুর সঙ্গে রেল লাইন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের লাইনজুড়ে দিয়ে একে বহুমুখী করেছে।

তাঁর সরকার সে সময় বিশ^ ব্যাংকের পরামর্শ না শুনে সেখানে যে রেললাইন সংযুক্ত করে পরবর্তীকালে সেটাই সবথেকে লাভজনক প্রতীয়মান হয়। যে কারণে নতুন একটি ডেডিকেটেড রেল সেতু করার জন্য তারা আবারও ফিরে আসে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতায় নেতৃত্ব দানকারী সংগঠন আওয়ামী লীগ এদেশের পল্লী প্রকৃতি এবং মাটি ও মানুষের কল্যাণ যতটা উপলদ্ধি করতে পারে আর কেউ ততটা বুঝবে না। কারণ, তাদের মনে এখনো রয়ে গেছে ‘পেয়ারা পাকিস্তান’। তাছাড়া, জিয়া, খালেদা এমনকি এরশাদ কারো জন্মই বাংলাদেশে নয়। যেমনটি তিনি এবং জাতির পিতা এই মাটিরই সন্তান, বলেন তিনি।

মাটির টানে, নাড়ীর টানেই তাঁরা এদেশের মানুষের ভাগ্য বিনির্মাণে কাজে লেগেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের আদর্শই হচ্ছে জনগণের সেবা করা।

আলোচনা সভায় সভাপতি মন্ডলীর অন্যতম সদস্য এবং সাবেক মন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও  মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম বক্তৃতা করেন।

আরো বক্তৃতা করেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ, কেন্দ্রীয় সদস্য পারভীন জামান কল্পনা, মহানগর উত্তর এবং দক্ষিণের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান ও আবু আহমেদ মান্নাফী।

দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ এমপি গণভবন থেকে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বানভাসী মানুষের পাশে আওয়ামী লীগ যেমন দাঁড়িয়েছে তেমনি প্রশাসন, সশ¯্র বাহিনী, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর সদস্যরা সেখানে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতিনিয়ত তাদের উদ্ধার ও চিকিৎসা প্রদান, খাদ্য প্রদান ও অন্যান্য সহায়তা প্রদানে সেখানে এতটুকু গাফিলতি নেই।

তিনি বলেন, প্রথম দিন থেকেই আমরা এই বানভাসী মানুষের পাশে আছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে সব প্রত্যন্ত অঞ্চলে কেউ যেতে পারছে না সে সব জায়গার খবর পাওয়ার সঙ্গেই তিনি সশস্ত্র বাহিনী মারফত হেলিকপ্টারে করে সেখানে সাহায্য পাঠাচ্ছেন, উদ্ধার তৎপরতা চালানো বা খাদ্য পৌঁছানো হয়েছে। অথচ যারা আজ পর্যন্ত বন্যায় বানভাসী মানুষকে এক মুঠো খাবারও দিতে পারেনি, তাদের পাশে দাঁড়ায়নি, ঘরে বসে তারা কেবল মায়া কান্না করছে, এটাই তাদের চরিত্র।

মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ এবং দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১৯৪৯ সালের এই দিনে পুরান ঢাকার কে এম দাস লেনের ঐতিহ্যবাহী রোজ গার্ডেনে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। তখন এর নাম ছিল পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ। পরবর্তী সময়ে অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক আদর্শের অধিকতর প্রতিফলন ঘটানোর জন্য এর নাম আওয়ামী লীগ করা হয়। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে বিজয়ের পর ১৯৫৫ সালে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে দলের নাম থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দেয়া হয়। আর ‘পূর্ব পাকিস্তান’ শব্দ দুইটি বাদ পড়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় থেকে। প্রতিষ্ঠার সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কারাগারে আটক ছিলেন। তাঁকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

১১৬ আলেমের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান হচ্ছে না: দুদক সচিব

১১৬ আরেমের বিরুদ্ধে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির দেওয়া শ্বেতপত্র নিয়ে কোনো অনুসন্ধান শুরু হয়নি বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব মাহাবুব হোসেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) দুপুরে দুদক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে সচিব এই কথা জানান।

দুদক সচিব জানান, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে সেটা সঠিক নয়। দুদক ধর্মীয় বক্তা বা আলেমদের বিরুদ্ধে কোনো তদন্তের সিদ্ধান্ত এখনো নেয়নি।

মাহাবুব হোসেন জানান, সম্প্রতি ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি দুই হাজার ২১৫ পাতার একটি ‘শ্বেতপত্র’ দুদকে দাখিল করে। শ্বেতপত্রটি পরীক্ষা করে সংক্ষিপ্তসার কমিশনে উপস্থাপনের জন্য দুদক একটি অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন করেছে। এটা কোনো অনুসন্ধান কমিটি নয়।

সচিব বলেন, দুদক হটলাইন কিংবা সরাসরি পত্রযোগে কোনো অভিযোগ পেলে তা প্রথমে পরীক্ষা করে। তাতে অভিযোগটিতে দুর্নীতির উপাদান পাওয়া গেলেও তা দুদকের তফসিলভুক্ত হলেই অনুসন্ধান করার সিদ্ধান্ত নেয়। আলেমদের বিরুদ্ধে পাওয়া শ্বেতপত্রটির ক্ষেত্রেও তাই ঘটছে। আগে যাচাই তারপর তফসিলভুক্ত হলে অনুসন্ধানে যাবে।

এর আগে কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, ১১৬ আলেমের অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের অনুসন্ধানকারী দল গঠন করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি দাফতরিক চিঠি মঙ্গলবার তিন কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়। অনুসন্ধানের জন্য নিযুক্ত অন্য দুই কর্মকর্তা হলেন দুদকের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহীম ও উপ-পরিচালক মো. আহসানুল কবীর। দুদকের পরিচালক উত্তম কুমার মণ্ডল এ চিঠি পাঠান।

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ও সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের উদ্যোগে গত ১১ মে ‘মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস তদন্তে গঠিত গণকমিশন’ ১১৬ আলেম ও ইসলামি বক্তার একটি তালিকা দুর্নীতি দমন কমিশনে জমা দেয়। তালিকায় স্থান পাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জঙ্গি অর্থায়ন এবং ওয়াজের মাধ্যমে ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করা ও ধর্মের নামে ব্যবসার অভিযোগ আনে গণকমিশন। তারা ‘বাংলাদেশে মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের ২০০০ দিন’ শীর্ষক শ্বেতপত্র প্রকাশ করে। বিষয়টি নিয়ে ধর্মপ্রাণদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।